সরকার ও মালিকপক্ষ মজুরি বোর্ড গঠনের নামে দলীয়করণ করে নিজেদের লোক বসিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ও সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসুদ। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন অপরিপক্ব সিদ্ধান্তের কারণে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার জাতীয় শ্রমিক শক্তির আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। শ্রমিকদের আন্দোলনে বলপ্রয়োগ বন্ধ এবং বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানান তিনি।
হান্নান মাসুদ বলেন, ‘সরকার ও মালিকপক্ষ মজুরি বোর্ড গঠনের নামে দলীয়করণ করে নিজেদের লোক বসিয়েছে, শ্রমিক ভাইয়েরা এটা মানছেন না। বিভিন্ন সময়ে সরকারের অপরিপক্ব সিদ্ধান্তের কারণে আন্দোলন এই পর্যায়ে গড়িয়েছে। শিল্প রক্ষার স্বার্থেই বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির আগামী তিন দিনের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণের দাবি জানান। একই সঙ্গে শ্রমমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মজুরি বোর্ড গঠন করে নতুন মজুরি নির্ধারণের দাবি জানানো হলেও শ্রমমন্ত্রী তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
মাজহারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার গত নয় মাসে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করেছে এবং দলটির সঙ্গে ঝুট ব্যবসার ভাগবাটোয়ারা করেছে। এখন শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনে আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশের দায় সরকারের বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শ্রমিকদের আন্দোলনে পুলিশের বলপ্রয়োগ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা শ্রমিকদের আন্দোলনে হামলা কইরেন না, আমরা আওয়ামী আমলের পুলিশ দেখতে চাই না।’
সংগঠনের সদস্য সচিব ঋয়াজ মোর্শেদ শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘প্রিয় শ্রমিক ভাইবোনেরা, আপনারা ভয় পাবেন না, শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে অবস্থান করুন। আপনাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সরকার হামলা করলে সারাদেশের ছাত্র-শ্রমিক-জনতা আপনাদের পাশে দাঁড়াবে।’
জাতীয় শ্রমিক শক্তির মুখ্য সংগঠক আরমান হোসেন অভিযোগ করেন, দলীয় বাহিনী দিয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। হামলায় জড়িত বিএনপি নেতাকর্মী ও পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি গণগ্রেপ্তার বন্ধ এবং গ্রেপ্তার শ্রমিকদের মুক্তি দাবি করেন তিনি।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংগঠক শেখ রুবেল অভিযোগ করেন, বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজে যোগ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। কারখানার ফটকে সরকারদলীয় স্থানীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মী ও পুলিশের মদদে শ্রমিকদের ওপর হামলা হচ্ছে। এ ধরনের দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকলে শ্রমিকদের আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে সতর্ক করেন তাঁরা।
পাশাপাশি শ্রমিকদের হয়রানির অভিযোগ তুলে ‘ব্ল্যাকলিস্ট প্রথা’ বাতিলের দাবি জানান সংগঠনের নেতারা। শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ এবং আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগ বন্ধে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।


