সরকার সময়মতো কার্যকর পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন বড় আকার ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনে ফ্যাসিস্টদের অনুপ্রবেশ ঘটে থাকলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।
মঙ্গলবার বিকালে পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, গত আট মাসে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারেনি। সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দফায় দফায় এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে। এতে মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন করেনি সরকার। ফলে সরকারের ওপর জনগণের আর আস্থা নেই।
তিনি বলেন, সরকারের ব্যর্থতা ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জনগণকে রাজপথে নামতে হবে। সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে যৌক্তিক উল্লেখ করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা করা উচিত ছিল। কিন্তু সঠিক সময়ে উদ্যোগ নিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির পক্ষে এনসিপি থাকবে। অতীতে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির আন্দোলনকে যৌক্তিক বলা হলেও এখন বিএনপি কেন তাদের ন্যায্য দাবির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ফ্যাসিস্টরা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। বিরোধী দলের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ যারা দেশের শত্রু ও জাতির শত্রু, তাদের ভারতে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সরকারের তেমন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সারা দেশে আওয়ামী লীগকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে বিএনপি। সার ডিলারশিপ বিএনপি ও তাদের সমর্থিত ব্যক্তিদের দেওয়া হচ্ছে, অন্যরা তা পাচ্ছেন না। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিতরণ করে তছরুপ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারের ব্যর্থতার কারণে গঙ্গা চুক্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আগামী ডিসেম্বর মাসে রাজপথে আন্দোলনে নামবে এনসিপি।
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকার যদি শ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের জানাতে পারে। কীভাবে আন্দোলন করতে হয় এবং আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, তা এনসিপি জানে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এনসিপি জামায়াতের জোটে থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেবে। আগামী ডিসেম্বরে দেশের পরিস্থিতির অবনতি হলে এর দায়ও সরকারকে নিতে হবে। ওই মাসে এনসিপি রাজপথে থাকবে। জনগণের অধিকার ও দেশের স্বার্থে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এর আগে পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এনসিপির সাংগঠনিক অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে পরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন দলটির নেতারা। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন এবং জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তির আহ্বায়ক মাহিন সরকারসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।


