ভেঙে পড়ল যুদ্ধবিরতি, বাহরাইনে ইরানের পাল্টা হামলা

ভেঙে পড়ল যুদ্ধবিরতি, বাহরাইনে ইরানের পাল্টা হামলা
Advertisement
Advertisement

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইনে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে মানামা। শনিবার বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের কয়েকটি ড্রোন দেশটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, ইরান তাৎক্ষণিকভাবে এ ধরনের কোনো হামলা চালানোর বিষয়টি স্বীকার না করলেও ধারণা করা হচ্ছে, বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করেই এই হামলা হয়েছে।

তেহরান-ওয়াশিংটন পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্য দিয়েই সপ্তাহখানেক আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সই হওয়া ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক ভেঙে পড়ল।

রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, শনিবার দক্ষিণ উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে তারা মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলার স্থানগুলো শনাক্ত করা হয়নি। উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘বর্বর বিমান হামলার’ জবাবেই মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।

তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কেবল যুদ্ধবিরতিই নয়, জাতিসংঘ সনদও লঙ্ঘন করেছে।

আরও পড়ুন

এর কিছুক্ষণ পর বাহরাইন দাবি করে, তাদের ভূখণ্ডে ইরানের ড্রোন হামলা হয়েছে। হামলার নিন্দা জানিয়ে তারা এটিকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের প্রকাশ্য লঙ্ঘন এবং নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে অভিহিত করেছে। বাহরাইন আরও জানিয়েছে, আত্মরক্ষার অধিকার তারা সংরক্ষণ করে।

সংঘাত চলাকালে ইরান এ ধরনের হামলার মাধ্যমে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শুক্রবার হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজে সতর্কতামূলক ড্রোন হামলা চালায় ইরান। জবাবে শনিবার ইরানের উপকূলে সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ওই হামলার পর দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক ঠিকভাবেই মেনে চলেছে।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স পোস্টে লিখেছেন, ‘ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সই করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তা মেনে চলেছে। সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন নিয়ে তাদের কোনো আপত্তি থাকলে তারা ফোনে আলোচনা করতে পারে। কিন্তু হামলার জবাব হামলাই হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অভিযানে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। পরে তারা একটি সাদাকালো ঝাপসা ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে একটি বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখিয়ে সেটিকে হামলার প্রমাণ হিসেবে দাবি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা ওই ভিডিওর ক্যাপশনে জানান, অভিযান শেষ হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক এলাকায় একটি জেটির আশপাশে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এর জবাবে ইরানের নৌবাহিনী অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তবে কোন কোন মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে, সে বিষয়ে তেহরান কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad