ভারতে যৌথ অভিযানে ১৬ ‘মাওবাদী নকশাল’ নিহত

ভারতে যৌথ অভিযানে ১৬ ‘মাওবাদী নকশাল’ নিহত
নিহত মাওবাদী নেতা অনল দা (বামে)। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

ভারতের ঝাড়খণ্ডে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শীর্ষ মাওবাদী নেতাসহ অন্তত ১৬ জন নকশাল নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার পশ্চিম সিংভূম জেলায় এ ঘটনা ঘটে।

দেশটির সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, নিহত মাওবাদী নেতা পাতিরাম মাঝি মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। তিনি অনল দা, তুফান ও রমেশ নামেও পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ১৪৯টি মামলা ছিল। অনলকে ধরিয়ে দিতে দুই কোটি রুপির পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল ভারত সরকার।

২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে ভারত থেকে নকশালবাদ নির্মূলের লক্ষ্য নিয়েছে ভারত সরকার ও দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী। মাওবাদী নেতাদের বিরুদ্ধে এই অভিযানকে বামপন্থী চরমপন্থা (এলডব্লিউই) দমনের ক্ষেত্রেও বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, ঝাড়খণ্ড পুলিশ ও সিআরপিএফ-এর এলিট ২০৯ কোবরা ব্যাটালিয়ন ‘অপারেশন মেঘাবুরু’ নামে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। কিরিবুরু থানার সারান্ডা অরণ্যের কুমদি এলাকায় পৌঁছলে মাওবাদী নকশালদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের গুলি বিনিময় হয়। এতে পাতিরাম মাঝি ওরফে অনল-দার সঙ্গে তার আরও ১৪ জন সহযোগী নিহত হন।

ঝাড়খণ্ডে সিআরপিএফ-এর আইজি সকেত কুমার জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাহাদা ও কুম্ভডিহ গ্রামের মধ্যবর্তী জঙ্গলে অভিযান শুরু করা হয়। সেখানে অনল-দা ও আনমলের নেতৃত্বাধীন মাওবাদী নকশালরা অবস্থান করছেন বলে খবর পাওয়া যায়। নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ঘিরে ফেলতেই মাওবাদীরা নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে।

আরও পড়ুন

প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে চলা গোলাগুলিতে ১৬ জন মাওবাদী নিহত হন। তাদের মধ্যে ১১ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে বলেও জানান আইজি সকেত কুমার। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বিহার-ঝাড়খণ্ড স্পেশাল এরিয়া কমিটির সদস্য লালচাঁদ হেমব্রম ওরফে আনমল সুশান্ত, আঞ্চলিক কমিটির সদস্য অমিত মুন্ডা, সাব-জোনাল কমিটির সদস্য পিন্টু লোহরা ও লালজিৎ, এরিয়া কমিটির সদস্য রাজেশ মুন্ডা এবং নারী মাওবাদী নেত্রী বুলবুল আলদা, বাবিতা, পূর্ণিমা, গোপে সুরাজমুনি ও জোঙ্গা। তাদের মধ্যে বেশিরভাগকেই ধরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করা ছিল।

এই অভিযানের সাফল্যকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ আখ্যা দিয়ে আইজি বলেন, ‘নিহতদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া এখনও চলছে। দুর্গম পাহাড়ি বনাঞ্চল ও দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে ছবি পাঠাতে দেরি হচ্ছে। সংঘর্ষস্থল দুরদুরা এলাকা অত্যন্ত দুর্গম এবং সেখানে মাওবাদীরা ব্যাপকভাবে আইইডি পুঁতে রেখেছে।’

তিনি আরও জানান, বর্তমানে সারান্ডা এলাকায় ৪০ থেকে ৫০ জন এবং ঝাড়খণ্ডের অন্য অংশে আরও প্রায় ১০ জন মাওবাদী সক্রিয় রয়েছে। অভিযানের আগে ঝাড়খণ্ডের প্রায় ১৪টি থানায় নকশালের প্রভাব থাকলেও এখন কেবল জারাইকেলা ও ছোটানাগড়া থানায় নকশালের আদিপত্য রয়েছে। সরকার ঘোষিত নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ঝাড়খণ্ডকে নকশালমুক্ত করা সম্ভব হবে বলেও আশা করেন তিনি।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক এক্স পোস্টে বলেন, ‘দেশকে নকশালমুক্ত করার অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী বড় সাফল্য অর্জন করেছে। কয়েক দশক ধরে ভয় ও সন্ত্রাসের প্রতীক হয়ে ওঠা নকশালবাদকে ৩১ মার্চের আগেই নির্মূল করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ এ সময় মাওবাদী নকশালদের হিংসার পথ ছেড়ে মূলধারায় ফেরারও আহ্বান জানান তিনি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad