কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানকে সহায়তা করলে বা দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রেখে আয়ের পথ তৈরি করে দিলে, সেই দেশও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, সম্প্রতি কিরগিজস্তানের বিশকেকে অনুষ্ঠিত ২৬তম সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বৈঠক করেন। এর পরপরই দেশ দুটির মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি হতে যাচ্ছে বলে গুঞ্জন ওঠে।
ব্রায়ান কিলমেডের অনুষ্ঠানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেদিকে ইঙ্গিত করে মার্কো রুবিও জানান, ভারতের সঙ্গে ইরানের কোনো বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ চলছে—এমন কোনো তথ্য তার কাছে নেই। তবে কোনো দেশ ইরানকে আর্থিকভাবে সহায়তা করলে যুক্তরাষ্ট্র সেই দেশের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
মার্কো রুবিও বলেন, ‘আমি মনে করি না ভারত ও ইরানের মধ্যে কোনো বাণিজ্য চুক্তি হচ্ছে।’
একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিজেদের মতো করে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করে এবং ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। এই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘অবশ্যই, বিশ্বের প্রতিটি দেশ নিজেদের পররাষ্ট্রনীতি তৈরি করে এবং অনেক দেশ ইরান সরকারের সঙ্গে কথা বলে। আমরাও বিভিন্ন আলোচনার ক্ষেত্রে ইরান সরকারের কিছু প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেছি এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে।’
এরপরও তিনি সবাইকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির কথা মনে করিয়ে দেন। রুবিও বলেন, ‘কোনো দেশেরই ইরানকে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে সহায়তা করা উচিত নয়। কোনো দেশ এমন কোনো ব্যবস্থা তৈরি করতে সাহায্য করা উচিত নয়, যার মাধ্যমে ইরান অর্থ আয় করতে পারে এবং সেই অর্থ সন্ত্রাসবাদে সহায়তা বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহার করতে পারে। যদি কোনো দেশ এমনটি করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আমাদেরও তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে।’
‘ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না’ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ থাকবে না।’
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার যুক্তরাষ্ট্র সংরক্ষণ করে।
তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত তারা পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাবে বা এমন আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করবে, ততক্ষণ তাদের মূল্য দিতে হবে। সেই মূল্য মূলত অর্থনৈতিক হবে। তবে প্রয়োজন হলে আমরা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রাখি—শুধু নিজেদের সুরক্ষার জন্য নয়, অন্যদের ওপর হুমকি সৃষ্টি করা থেকেও তাদের ঠেকানোর জন্য।’
ইরান তার আর্থিক সম্পদ দেশের জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ব্যবহার না করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তায় খরচ করছে বলেও অভিযোগ করেন রুবিও।
তিনি বলেন, ‘তারা অর্থ চায় দুটি কারণে- প্রথমত সন্ত্রাসবাদে সহায়তা করার জন্য এবং শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের জন্য। আমরা তা হতে দিতে পারি না।’


