বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনীর অভিযানে স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ)’র একটি অস্থায়ী আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে এবং সেখান থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার রাতে থানচি ও রুমা উপজেলার মধ্যবর্তী প্রাতা বম পাড়া সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত টহলের সময় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী ওই ক্যাম্পের সন্ধান পায়। ফলে প্রাতা পাড়ার কাছাকাছি একটি ভোটকেন্দ্র থাকায় এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছিল।
বাকতলাই পাড়া সেনা সাব-জোনের উপঅধিনায়ক মেজর আনোয়ার অভিযানে নেতৃত্ব দেন। সেনা সূত্র জানায়, এটি ছিল কেএনএ’র একটি গোপন আস্তানা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সেনা সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে একটি দেশীয় বন্দুক, একটি চাপাতি, কিছু সরঞ্জাম এবং রান্না করা খাবার উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, আশপাশের গ্রাম থেকে জোরপূর্বক খাবারগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল।
রুমা ও থানচিতে ব্যাংক ডাকাতি ও অস্ত্র লুটের ঘটনার পর যৌথবাহিনীর তৎপরতায় দীর্ঘদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে কেএনএ’র সামরিক শাখার সদস্যরা রুমা ও থানচির প্রত্যন্ত এলাকায় আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
যেসব এলাকায় বম জনগোষ্ঠীর বাসিন্দারা নিজ ভিটায় ফিরে এসেছেন, সেসব এলাকায় কেএনএ’র আনাগোনা বেড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বাকতলাই পাড়া, প্রাতা পাড়া, থান্দুই পাড়া, শেরকর পাড়া, তামলো পাড়া, পাইনিয়াম পাড়া, সিলোপি পাড়া এবং থিন দোলিতালা এলাকায় তাদের উপস্থিতিতে স্থানীয়দের মধ্যে শঙ্কা বাড়ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
২০২৪ সালে কেএনএফ রুমা ও থানচিতে ব্যাংক লুটের ঘটনায় জড়িত ছিল। ওই ঘটনার পর যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানের সময় আতঙ্কে অনেক বাসিন্দা নিজ গ্রাম ছেড়ে সীমান্তবর্তী জঙ্গলে আশ্রয় নেন। পরে চট্টগ্রাম ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তদারকিতে বাকতলাই পাড়া সাব-জোন কর্তৃপক্ষ ২৯টি পরিবারকে নিজ নিজ পাড়ায় ফিরিয়ে আনে।
অভিযোগ রয়েছে, কেএনএ সদস্যরা এসব পাড়াকেই এখন টার্গেট করছে।


