চট্টগ্রাম নগরে টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
এ সময় তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কোনো পরিবারকে সহায়তার বাইরে রাখা হবে না। বন্যা-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তাও নিশ্চিত করা হবে।
রোববার সকালে নগরের চান্দগাঁও সিএন্ডবি, মোহরা ও দক্ষিণ কাট্টলি এলাকার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন এবং ত্রাণ বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী। তার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ ও সাঈদ আল নোমান।
প্রতিমন্ত্রী দুর্গত এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে বাসিন্দাদের খোঁজখবর নেন। জলাবদ্ধতা ও বন্যার কারণে সৃষ্ট দুর্ভোগের বিষয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় বিশুদ্ধ পানির সংকট, খাদ্য এবং জরুরি সেবার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
ত্রাণ বিতরণ শেষে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দুর্যোগের এই সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার বাইরে রাখা হবে না। প্রয়োজনীয় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধসহ অন্যান্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে। বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করবে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা, জরুরি সেবা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন বিভাগ মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে।
এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা দুর্গত মানুষের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেন।
গত কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলের হাজারো পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় সরকারি উদ্যোগে ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম চলছে।


