পাবনার চরতারাপুর ইউনিয়নে এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও গুলির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। হামলায় বিএনপির দুই নেতা গুলিবিদ্ধ ও একজন আহত হয়েছেন।
বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের দাসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী প্রবাসীর নাম আবুল কাশেম (৫০)। তিনি গত ১৭ বছর ধরে মালয়েশিয়াতে থাকেন। সম্প্রতি ছুটিতে দেশে এলে হামলার শিকার হন।
গুলিবিদ্ধরা হলেন- চরতারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শেখ শফি (৪৫) এবং দাসপাড়া গ্রামের টিক্কা খান (৪৭)। তিনিও স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
আবুল কাশেমের দাবি, চাঁদা না পেয়ে চরতারাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম প্রামাণিক ও তার সহযোগীরা এ হামলা চালিয়েছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম।
অভিযোগে বলা হয়, বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে দাসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কাশেম বিশ্বাস, শেখ শফি, টিক্কা খানসহ কয়েকজন বসে কথা বলছিলেন। এ সময় আব্দুস সালামের কয়েকজন যুবক মোটরসাইকেলে করে এসে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। পরে ঘরের পেছন থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন তারা। স্কুলের সামনে এসে আবারও গুলি করা হয়। এ সময় শেখ শফি গুলিবিদ্ধ হন।এর আধাঘণ্টা পর ঘটনাস্থল থেকে ফেরার পথে টিক্কা খানের উপরও গুলি চালানো হয়।
পরে আহতদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শফিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী কাশেম বলেন, ‘১৭ বছর ধরে আমি মালয়েশিয়াতে থাকি। সালাম প্রামাণিক প্রায়ই চাঁদার দাবিতে আমার বাড়িতে এসে হুমকি দিত। আমি চলতি মাসের ৫ তারিখে ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসি। আসার পর যুবদলের নেতারা আবারও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তখন বলি, আমিও তো বিএনপি করি। তাহলে বিএনপি করে বিএনপিকে চাঁদা দিতে হবে কেন?’
‘তারা চাঁদা না পেয়ে আমার বাড়িতে এসে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। এ সময় আমার সঙ্গে থাকা দুইজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে আমাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়েছে।’
এই চক্রটি সালিশ বাণিজ্য, অবৈধ বালু ব্যবসা, মাদক ব্যবসা, জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ এলাকায় নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ আবুল কাশেমের। তিনি বলেন, ‘এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তারা আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। এসব সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সালাম প্রামাণিক। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এ ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানি না। আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে। আমি কোন অপরাধের সঙ্গে জড়িত নই।’
ওসি আব্দুস সালাম বলেন, ‘প্রবাসে থাকাকালে আবুল কাশেম যুবদল নেতাদের বালুর ব্যবসা নিয়ে লেখালেখি করতেন। বিদেশ থেকে বাড়ি আসার পর কাশেমের সঙ্গে শেখ শফি ও টিক্কাকে মিশতে নিষেধ করেছিলেন সালাম। এরই জেরে ইউনিয়ন যুবদল নেতারা হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শটগানের গুলির দুটি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঘটনাটির তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


