পাবনায় অপহরণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে অপহৃত এক তরুণ ও তরুণীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা নিজেদের মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে গেছে। পুলিশ সেই মোটরসাইকেল জব্দ করেছে।
উদ্ধার হওয়া তরুণ ও তরুণী হলেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার পাঁচুড়িয়া পূর্বপাড়া গ্রামের তাহমিনা খাতুনের ছেলে তরিকুল ইসলাম সনম (১৯) এবং তার বান্ধবী ঈশ্বরদী উপজেলার বাসিন্দা নীলা খাতুন (১৯)।
শনিবার ভোররাতে পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স এলাকা থেকে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়। জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। এর আগে শুক্রবার বিকালে সনম ও নীলাকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা।
পাবনা ডিবি পুলিশের ওসি রাশিদুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সনম পাবনা শহরে আসার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন। এরপর তিনি পাবনা থেকে বান্ধবী নীলাকে সাথে নিয়ে ভাঁড়ারা জামে মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বান্ধবী নীলার একটি মানত ছিল যে তিনি ঐতিহ্যবাহী ওই মসজিদে ৫০০ টাকা দান করবেন।
তারা মসজিদের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে অজ্ঞাতনামা অপহরণকারীরা তাদের পথরোধ করে অপহরণ করে। এরপর অপহরণকারীরা সনমের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে সনমকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সনমের মা বিষয়টি পুলিশকে জানান।
ঘটনাটি জানার পরপরই অভিযানে নামে জেলা গোয়েন্দা ও সদর থানা পুলিশ। তারা অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করে পাবনা সদর থানার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর অভিযান চালায়।
অভিযানের এক পর্যায়ে শনিবার ভোররাতে ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স এলাকা থেকে মোটরসাইকেলসহ অপহৃত সনম ও নীলাকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা তাদের ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন কালো রঙের সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়।
উদ্ধারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সনম ও নীলা পুলিশকে জানায়, একদল দুর্বৃত্ত পথরোধ করে তাদের জোরপূর্বক অপহরণ করেছিল। এরপর তাদের বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। একই সাথে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।


