পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে জেলা আদালতের বাইরে ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনায় ‘ভারতীয় সন্ত্রাসীদের’ দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে ওই হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন। পাকিস্তানের রাজধানীকে তুলনামূলক নিরাপদ শহর বিবেচনা করা হলেও এ হামলার ঘটনা কর্তৃপক্ষের চোখ খুলে দেয়।
এদিন রাতেই শেহবাজ শরিফ এক বিবৃতিতে দাবি করেন, আফগানিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসীরা ভারতের প্ররোচনায় এই হামলা চালিয়েছে। তিনি এ হামলাকে পাকিস্তানবিরোধের ‘নোংরা ষড়যন্ত্র’ বলেও অভিহিত করেন।
অন্যদিকে হামলার পরপরই তার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয় সশস্ত্র সংগঠন পাকিস্তান তালেবান নামে পরিচিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অইসলামিক বিচারক ও আইনজীবীদের’ লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে কিছুক্ষণ পরই টিটিপির মুখপাত্র এ দাবি প্রত্যাহার করে জানান, সংগঠনটির সঙ্গে হামালার ঘটনার কোনও সম্পর্ক নেই।
পাকিস্তানের কয়েকজন মন্ত্রীও অবশ্য এই আত্মঘাতী হামলার পেছনে সরাসরি টিটিপিকেই দায়ী করেছেন। তারা বলেছেন, চলতি বছরে পাকিস্তানজুড়ে টিটিপি শতাধিক হামলা চালিয়েছে।
এছাড়া, সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একের পর এক হামলায়ও এই সশস্ত্রগোষ্ঠী জড়িত। টিটিপিকে এ হামলায় সহযোগিতা কিংবা প্ররোচনার ক্ষেত্রে অন্য কোন দেশের হাত থাকার সম্ভাবনাও একেবারে নাকচ করেননি তারা।
ইসলামাবাদে হামলার পেছনে ভারতকে দায়ী করা হলে জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘ভারত এই ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। ভারত সরকার যেকোনো সন্ত্রাসকে নিশ্চিহ্ন করতে বদ্ধ পরিকর।’
এ বছরের এপ্রিলে ভারতশাসিত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই চরম অবনতি ঘটেছে ভারত–পাকিস্তান কূটনৈতিক সম্পর্কে। এমনকি ওই হামলার জেরে দুই দেশ যুদ্ধেও জড়িয়েছে। ভারতের দাবি, কাশ্মীর হামলার নেপথ্যে পাকিস্তান।
পাকিস্তান সে অভিযোগ অস্বীকার করে বরং ভারত এবং আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করে তোলার অভিযোগ তোলে।
শেহবাজ শরিফের দাবি, ভারত ও আফগান তালেবানদের পৃষ্ঠপোষকতায় টিটিপি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী বেলুচ সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো দেশটিতে অস্থিতিশীলতা ছড়াচ্ছে।


