আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা, সংঘর্ষ, উসকানিমূলক বক্তব্য ও অনিয়মের অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের মধ্যে সহিংসতা নির্বাচনকালীন পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে, যা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিপন্থী।
বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী ও সমর্থকেরা হামলা ও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলায় জামায়াতের এক স্থানীয় নেতা নিহত হয়েছেন এবং একই ঘটনায় বিএনপির এক নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
আসক বলেছে, প্রচারকালে নারীদের বোরকা বা নেকাব জোরপূর্বক খুলে ফেলার অভিযোগ অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত এবং নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কারণে কোনো নাগরিককে এ ধরনের অপমানের শিকার হতে হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
সংগঠনটি আরও জানায়, প্রচারে ধর্মের ব্যবহার, ভোটারদের প্রভাবিত করতে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অশালীন ভাষা ব্যবহার এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিষোদগারের অভিযোগও উদ্বেগজনক।
বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচন একটি মৌলিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
আসক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের সহিংসতা, উসকানি, অর্থ দিয়ে ভোটার প্রভাবিত করার চেষ্টা ও ধর্মের অপব্যবহার বন্ধে অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি সংযম, পারস্পরিক সম্মান ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।


