রেকর্ডসংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বর্ষসেরা পাখি নির্বাচনে ‘বার্ড অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হয়েছে অত্যন্ত বিপন্ন প্রজাতির ব্ল্যাক রবিন। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংরক্ষণবাদী সংগঠন ফরেস্ট অ্যান্ড বার্ড আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ব্ল্যাক রবিন ২৬ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিখ্যাত উড়তে না-পারা তোতাপাখি কাকাপো এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্থানীয় শিকারি পাখি ক্যারিয়ারিয়া ফ্যালকন।
ছোট আকারের এই স্থানীয় পাখিটির আবাস নিউজিল্যান্ডের দক্ষিণ দ্বীপের পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার (৫০০ মাইল) দূরে অবস্থিত দুর্গম চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জে। ১৯৮০ সালে পৃথিবীতে ব্ল্যাক রবিনের সংখ্যা কমে মাত্র পাঁচটিতে নেমে এসেছিল, যার মধ্যে প্রজননক্ষম স্ত্রী পাখি ছিল মাত্র একটি। বর্তমানে প্রজনন ও সংরক্ষণের মাধ্যমে এ পাখির সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩৫০টিতে দাঁড়িয়েছে।
ফরেস্ট অ্যান্ড বার্ডের রেবেকা হ্যাচ জানান, এ বছর রেকর্ড ১ লাখ ৫ হাজার মানুষ তাদের পছন্দের পাখিকে ভোট দিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের প্রায় প্রতি ৫০ জন মানুষের মধ্যে একজন এই নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রকৃতির প্রতি তাদের সমর্থন দেখিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেন, এ বছর ভোটারের সংখ্যা রেকর্ড ছাড়ালেও এতে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ ছিল না।
ব্ল্যাক রবিনের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে চ্যাথাম আইল্যান্ডস ল্যান্ডস্কেপ রেস্টোরেশন ট্রাস্ট। পাখিটির আবাসস্থল বাড়ানো ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে তারা একটি তৃতীয় আবাসস্থল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রতি বছর আয়োজিত এই ‘বার্ড অব দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতাটি গত এক দশকে বেশ কয়েকবার আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০১৯ সালে রাশিয়াভিত্তিক আইপি ঠিকানা থেকে শত শত ভোট জমা পড়ায় এতে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছিল।
তবে ফরেস্ট অ্যান্ড বার্ড জানায়, বেশিরভাগ ভোট বৈধ হওয়ায় বিজয়ী ‘হইহো’ বা ইয়েলো-আইড পেঙ্গুইনের ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়েনি। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ‘লাস্ট উইক টুনাইট’-এর উপস্থাপক জন অলিভারের প্রচারণার পর পুটেকেটেকে পাখিটি ‘বার্ড অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হয়েছিল।


