নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত মামলাগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি দ্রুত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স), আপিল এবং সংশ্লিষ্ট আবেদন শুনানির জন্য হাইকোর্টে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি।
বুধবার এক প্রশাসনিক আদেশে জানানো হয়, বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের এই বিশেষ বেঞ্চ নারী এবং শিশু নির্যাতন দমন আইন-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর শুনানি পরিচালনা করবে।
আদেশ অনুযায়ী, বেঞ্চটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন থেকে উদ্ভূত মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের বিষয়, একই রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিল, এসব আপিল গ্রহণের আবেদন, সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি বিবিধ মামলা, ফৌজদারি রিভিশন এবং এ ধরনের বিষয়ে জারি হওয়া রুল, আবেদনপত্র গ্রহণ ও শুনানি করবে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৪ জুন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে এই বেঞ্চ হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকার্য পরিচালনা শুরু করবে।
বিশেষ বেঞ্চ গঠনের সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এল, যখন নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের মামলাগুলোর বিচারিক বিলম্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত ১ জুন টাইমস অব বাংলাদেশে প্রকাশিত ‘Swift Verdicts Snag in HC Logjam’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়, আলোচিত অনেক মামলায় নিম্ন আদালত দ্রুত রায় দিলেও সেসব রায়ের কার্যকর বাস্তবায়ন প্রায়ই উচ্চ আদালতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে আটকে যায়। প্রতিবেদনে বিশেষ করে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স এবং আপিল নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
ওই প্রতিবেদনে আইন বিশেষজ্ঞরা শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের মামলাগুলো দ্রুত শুনানির জন্য পৃথক বা বিশেষ বেঞ্চ গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
এর পর, ৭ জুন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের জানান, শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলাসহ নারী ও শিশুবিষয়ক মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠনের বিষয়ে প্রধান বিচারপতি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সেদিন তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তারা এসব মামলায় কোনো অবস্থাতেই শুনানি মুলতবির আবেদন করবেন না। তার ভাষায়, বিচারপ্রক্রিয়া যাতে অনাবশ্যকভাবে বিলম্বিত না হয়, সে লক্ষ্যেই এই অবস্থান নেওয়া হয়েছে।


