দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাইকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই পুরস্কারের মাধ্যমে বর্তমান বিশ্বে মানবাধিকারের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি, এই সত্যটি পুনরায় প্রতিফলিত হয়েছে।
নাভি পিল্লাই পূর্বে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি রুয়ান্ডার গণহত্যাবিষয়ক ট্রাইব্যুনালের প্রধান হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সর্বজনীন আইনি নীতির প্রতি অটল অঙ্গীকার ও দৃঢ় নৈতিক অবস্থানের স্বীকৃতি হিসেবে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি তাকে এই সম্মাননায় ভূষিত করে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থার মুখপাত্র শাবিয়া মানতু এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার নাভি পিল্লাইকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে দেখে আমাদের খুবই ভালো লাগছে। বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে মানবাধিকারের প্রয়োজনীয়তা ও মূল্য যে কতটা গভীর, এটি তারই স্পষ্ট প্রমাণ।’
বর্তমান জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক বলেন, এই পুরস্কার প্রকৃতপক্ষে মানবাধিকার, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও সর্বজনীন জবাবদিহির একটি বিশ্বজনীন স্বীকৃতি। শান্তি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির মতো মৌলিক ভিত্তি বিনির্মাণে এসব উপাদান অপরিহার্য।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘নাভি পিল্লাই যেসব গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করেন, এটি শুধু তারই অসাধারণ স্বীকৃতি নয়; বরং ব্যক্তি হিসেবেও তার অনন্য সাহসিকতার সম্মাননা। তিনি অত্যন্ত মানবিক একজন ব্যক্তি এবং আমার বহু সহকর্মীর জীবনে তার গভীর প্রভাব রয়েছে।’
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয়ের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পক্ষ থেকে নাভি পিল্লাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে ফলকার তুর্ক বলেন, ‘নাভি, আপনাকে জানাই আমাদের উষ্ণ অভিনন্দন এবং গভীর কৃতজ্ঞতা।’


