ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে এবার দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। অসাধু উপায়ে ১১২ কোটি টাকার বেশি সম্পদ অর্জন এবং ৩৪টি ব্যাংক হিসাবে ৭৫৫ কোটি টাকার বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। তথ্যটি নিশ্চিত করেন দুদকের পিপি দেলোয়ার জাহান রুমী।
গত ২৫ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন দিলীপ আগরওয়ালাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন। এদিন তাকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, দিলীপ কুমার আগরওয়ালা অসাধু উপায়ে ১১২ কোটি ৪৭ লাখ ২৮ হাজার ৪০৭ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন ও দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া তার নামে থাকা ৩৪টি ব্যাংক হিসাবে ৩৮৫ কোটি ৩২ লাখ ৬২ হাজার ১২৩ টাকা জমা এবং ৩৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ৯৪ হাজার ১৪০ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে এসব হিসাবে ৭৫৫ কোটি ৩০ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৩ টাকার লেনদেন হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে অর্থের স্তরায়ণ বা ‘লেয়ারিং’-এর তথ্য পাওয়ায় দুদক মামলা করে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অবৈধ অর্থের উৎস আড়াল করতে একাধিক ধাপে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর বা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে ‘লেয়ারিং’ বলা হয়।
এর আগে গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী থেকে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন সোনা ও হীরা চোরাচালান এবং অর্থ পাচারের মামলায় তাকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।
২১ অক্টোবর আ. জব্বার হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুই দফায় মোট ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে তিনি কারাগারে ছিলেন।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সোনা ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। ওই দিন মধ্যরাতে রাজধানীর গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের কার্যালয় ঘিরে অভিযান চালানো হয়।
পরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে রাজধানীর বাড্ডায় হৃদয় আহমেদ নামে এক কিশোরকে হত্যার মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় বিভিন্ন দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয় তাকে। পরবর্তী সময়ে নিম্ন ও উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হন তিনি।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দিলীপ আগরওয়ালা। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ছিলেন।


