ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া আরও ছয়জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রোববার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১টার দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় ‘হোস্টেল ডেজ’ নামে পরিচিত ভবনটি ধসে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, দুর্ঘটনার সময় ভবনটির ভেতরে অন্তত ৫০ মানুষ ছিলেন। ভবনটি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কলেজের কাছাকাছি অবস্থিত এবং সেখানে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী থাকতেন।
সোমবার অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এআইআইএমএস) এক বিবৃতিতে ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। উদ্ধার হওয়া ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা বলেন, ভবনের বেজমেন্টে পানি জমে যাওয়া রবং একই সঙ্গে সেখানে চলমান মেরামতের কাজ ভবন ধসের কারণ হয়ে থাকতে পারে। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সোমবার সকালে গুপ্তা জানান, ভবনের প্রায় ৮০ শতাংশ ধ্বংসস্তূপ সরানো হয়েছে। বেজমেন্টের ধ্বংসাবশেষই এখন মূলত সরানোর বাকি। এ পর্যন্ত ১২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন মারা গেছেন এবং বাকি ছয়জন চিকিৎসাধীন।
দুর্ঘটনার সময় ভবনটিতে থাকা শিক্ষার্থীদের অনেকেই নিজ নিজ কক্ষে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার ছুটির দিন হওয়ায় তাদের কোনো ক্লাস ছিল না। স্থানীয় এক বিধায়ক ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া কয়েকজন শিক্ষার্থী ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক দোকানদার বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, ভবনটি ধসে পড়ার শব্দ ভূমিকম্পের মতো মনে হয়েছিল। মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ ধোঁয়া ও ধুলায় ঢেকে যায়। পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে কয়েকটি মরদেহ উদ্ধার এবং জীবিত অবস্থায় চার শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের কথা জানান তিনি। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিক্ষার্থীদের ‘বাঁচান, বাঁচান’ বলে চিৎকারও শুনেছেন বলে জানান ওই প্রত্যক্ষদর্শী।
নিরাপত্তার স্বার্থে ভবনটির পাশের আরেকটি ভবন খালি করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভবনটি সোমবার ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ধসে পড়া ভবনটির বয়স ৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। আশপাশের বাসিন্দাদের ভাষ্য, ভবনটি ১০০ বছরের ইজারায় ছিল এবং বেজমেন্টে খনন করে হোস্টেলের পরিসর বাড়ানোর কাজ চলছিল।
একজন পৌর কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভবনটিতে সম্প্রতি কোনো খনন বা কাঠামোগত পরিবর্তনের কাজ হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টানা বৃষ্টির কারণে ভবনের কাঠামোতে পানি ঢুকে দুর্বল হয়ে পড়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। মেরামত বা অন্য কোনো নির্মাণকাজ ধসের পেছনে ভূমিকা রেখেছিল কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় ভবনের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
শিক্ষার্থীদের সংগঠন ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (এনএসইউআই) ভবন ধসের কারণ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না।
দিল্লির দক্ষিণ ক্যাম্পাসের কাছে অবস্থিত সত্য নিকেতন শিক্ষার্থীদের আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সুবিধা সীমিত হওয়ায় দিল্লির বাইরে থেকে আসা অনেক শিক্ষার্থী তুলনামূলক কম খরচের বেসরকারি হোস্টেল ও পেইং গেস্ট (পিজি) বাসায় থাকেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়, গত তিন বছরে রাজধানী দিল্লিতে এক হাজারের বেশি ভবন ধসের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দুর্বল ভিত্তি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী এবং অদক্ষ শ্রমিককে ভবন ধসের সাধারণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে গত বছরের এপ্রিলে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে একটি আবাসিক ভবন ধসে তিন শিশুসহ ১১ জন নিহত হন। ২০২৪ সালে দিল্লির একটি পরীক্ষার কোচিং সেন্টারের প্লাবিত বেজমেন্টে আটকা পড়ে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।


