দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ২৩৯ জন নতুন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত এবং ৭৭ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের (হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম) মঙ্গলবার প্রকাশিত স্বাস্থ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত এসব মৃত্যু ও রোগী শনাক্তের তথ্য পাওয়া গেছে।
এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫৯ জনে। এ সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ২০১ জনে পৌঁছেছে। সন্দেহজনক হাম রোগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৩৬ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে ১০০ জনের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৭৯ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৮৬ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে ঢাকায় চারজন এবং সিলেট ও চট্টগ্রামে একজন করে মারা গেছেন। এ নিয়ে বিভাগভিত্তিক হাম উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকায় ৪২৩, সিলেটে ১৬২, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৭, চট্টগ্রামে ৭১, বরিশালে ৫৭, খুলনায় ৩৯ এবং রংপুরে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সন্দেহজনক ৪৩০ জন এবং নিশ্চিত ৫৪ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে বিভাগটিতে ৩৬৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ৩০১ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগে ২৬৬ জন সন্দেহজনক ও ১৫ জন নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সেখানে ২৬৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ২৩১ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। সিলেট বিভাগে সন্দেহজনক ১৯৭ জন রোগী শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি ১৯৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে সন্দেহজনক ১১৯ জন ও ছয়জন নিশ্চিত, খুলনায় ৯৮ জন, ময়মনসিংহে ৮২ জন, রাজশাহীতে ২৮ জন সন্দেহজনক ও দুজন নিশ্চিত এবং রংপুরে ১৯ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সারাদেশে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৯১ হাজার ৪২৭ জনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জনকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে। এতে কাভারেজ হয়েছে ১০৯ দশমিক ৯ শতাংশ।
বিভাগগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহে সর্বোচ্চ ১১৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং বরিশালে ১০৪ দশমিক ৫ শতাংশ কাভারেজ হয়েছে।
দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৯ লাখ ৫ হাজার ৯৫০ জনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২০ লাখ ৭৫ হাজার ৫১৩ জনকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে। এতে কাভারেজ দাঁড়িয়েছে ১০৮ দশমিক ৯ শতাংশ। সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে গাজীপুরে সর্বোচ্চ ১১৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং রংপুরে ১০০ শতাংশ কাভারেজ অর্জিত হয়েছে।


