জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া মারণাস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল স্থগিত চেয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান রেজিস্ট্রি ডাকযোগে ও ই-মেইলের মাধ্যমে জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব; আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র্যাব মহাপরিচালককে লিগ্যাল নোটিশে বিবাদী করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, বিপুল পরিমাণ মারণাস্ত্র ও গোলাবারুদের বড় একটি অংশ এখনো উদ্ধার করা যায়নি। নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদের ওপরে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় নির্বাচনি মাঠ এখন বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছে।
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারাত্মক আহত হওয়ার কথাও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
এতে বলা হয়, ‘হাদির ওপর হামলার ঘটনা প্রমাণ করে যে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না করে নির্বাচনের আয়োজন করা হলে তা প্রার্থীদের প্রাণনাশের কারণ হবে এবং সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের জীবনের অধিকার লঙ্ঘন করবে।’
‘জুলাই সনদ গণভোট একটি জাতীয় ঐকমত্যের বিষয় এবং রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ, তাই এতে সহিংস প্রতিযোগিতার সুযোগ নেই। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক প্রক্রিয়া। তাই অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানির মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে।’
এসব কারণ উল্লেখের পাশাপাশি নোটিশে আরও বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত দিনে জুলাই সনদের উপর গণভোট যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হোক, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক লুণ্ঠিত সকল অস্ত্র উদ্ধার এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল স্থগিত রাখতে হবে।
আগামী সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে হাইকোর্টে রিট করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে, ৩ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পরবর্তী সব কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে বাংলাদেশ কংগ্রেসের পক্ষে দলের মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. ইয়ারুল ইসলাম হাইকোর্টে রিট করেন। পরে সেটি খারিজ করে হাইকোর্ট।


