তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যাত্রা শুরু হয়ে গেছে। অবশ্য অনেক আগেই এই ট্রেনে ওঠে পড়েছেন বড় দলগুলোর অনেক নেতা। নিজ নিজ এলাকায় শোভা পাচ্ছে প্রার্থী হিসাবে তাদের পোস্টার।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি(এনসিপি)সহ বিভিন্ন দল তফসিল ঘোষণার আগেই তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করেছে। চূড়ান্ত পর্যায়ে এসব তালিকায় হয়তো কিছু রদবদলও হবে। তবে রাজধানী ঢাকার আসনগুলোতে মনোনয়ন পাওয়া বড় নেতাদের প্রার্থীতা বদলের সম্ভাবনা কম। দেখে নেওয়া যাক রাজধানীতে বড় দলগুলির কারা নামছেন ভোটযুদ্ধে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি এবার প্রার্থী হচ্ছেন মীরপুরের একাংশ ও কাফরুল নিয়ে ঢাকা-১৫ আসনে। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনেও বিএনপি-জামায়াত জোট থেকে এই আসনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। ফলে এখানে তার নির্বাচনী প্রচারের অতীত অভিজ্ঞতা আছে। এখানে তার প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির শফিকুল ইসলাম খান। গত বছর গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের দল এনসিপির প্রার্থী মেজর(অব.) মুহাম্মদ আলমগীর ফেরদৌস।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য মির্জা আব্বাস নির্বাচন করবেন মতিঝিল-শাহজাহানপুর-পল্টন-শাহবাগ-রমনা নিয়ে ঢাকা-৮ আসনে। এই এলাকা থেকে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য হয়েছেন। এখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর ড. হেলাল উদ্দিন। তবে শোনা যাচ্ছে জামায়াত তার প্রার্থী বদল করে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করতে পারে। এনসিপি এখনো এই আসনে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নির্বাচন করবেন রামপুরা-বাড্ডা-ভাটারা নিয়ে ঢাকা-১১ আসনে। এই নির্বাচনী এলাকার সাঁতারকূলে তার পিতৃভূমি, তবে এখন রামপুরা বনশ্রীর বাসিন্দা। নাহিদ ইসলামের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ড. আবদুল কাইয়ুম। পোড় খাওয়া এই নেতা বাড্ডা এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনার থেকে তার জনপ্রতিনিধি হওয়ার যাত্রা শুরু করেছেন। এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।
এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী নির্বাচন করবেন বিমানবন্দর ও উত্তরা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৮ আসনে। এখানে বিএনপির দ্বিতীয় দফার ঘোষণায় মনোনয়ন পেয়েছেন এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। সবার আগে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন পেয়ে এই আসনে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন আশরাফুল হক।
এনসিপির আরেক আলোচিত নেত্রী ডা. তাসনিম জারা মনোনয়ন পেয়েছেন সবুজবাগ-খিলগাঁও-মুগদা নিয়ে ঢাকা-৯ আসনে। এখানে দ্বিতীয় দফায় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি, ধানের শীষ পাবেন হাবিবুর রশিদ। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসাবে আছেন কবির আহমেদ।
ক্যান্টনমেন্ট-গুলশান-বনানী নিয়ে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির সমর্থনে প্রার্থী হচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির সভাপতি ব্যারিস্টার আন্দালিভ পার্থ। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামান। অন্যদিকে এনসিপির প্রার্থী হচ্ছেন ডা. তাজনূভা জাবীন।
আরেক ছোট দলের বড় নেতা ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের(এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজকে মোহাম্মদপুর-আদাবর-শেরেবাংলা নগর এলাকা নিয়ে ঢাকা-১৩ আসন ছেড়ে দিচ্ছে বিএনপি। এখানে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোবারক হোসাইন। আর আকরাম হোসাইনকে প্রার্থী করছে এনসিপি।
উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া হতে পারেন ধানমন্ডি-নিউমার্কেট-কলাবাগান-হাজারীবাগ নিয়ে ঢাকা-১০ আসনে। বিএনপি তাদের প্রথম দফার ঘোষণায় আসনটি ফাঁকা রাখলেও দ্বিতীয় দফায় প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করেছে শেখ রবিউল আলমের নাম।


