তৈলারদ্বীপ সেতুতে টোল বন্ধের নির্দেশ, বাস্তবায়নের দাবি স্থানীয়দের

তৈলারদ্বীপ সেতুতে টোল বন্ধের নির্দেশ, বাস্তবায়নের দাবি স্থানীয়দের
রোববার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে তৈলারদ্বীপ সেতুতে টোল আদায় বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রামের সাঙ্গু নদীর ওপর নির্মিত তৈলারদ্বীপ সেতুতে টোল আদায়ের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

তাদের দাবি, দক্ষিণ চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। নতুন করে টোল আদায় শুরু হলে মানুষের যাতায়াত ব্যয় বাড়বে।

রোববার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান বাঁশখালীর সমাজকর্মী ও জুলাইযোদ্ধা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন। সেতুতে টোল আদায়ের উদ্যোগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন।

রিটকারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে টোল আদায়ের বিজ্ঞপ্তির বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেন। একই সঙ্গে ওই বিজ্ঞপ্তির আওতায় নতুন কোনো দরপত্র গ্রহণ বা খোলা, দরপত্র অনুমোদন, ইজারাদার নিয়োগ ও ইজারা চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন আদালত। সেতু ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে যেকোনো উপায়ে টোল আদায়ের কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি তৈলারদ্বীপ সেতুতে টোল আদায়ের জন্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে দরপত্র আহ্বান করা হয়। গত ৬ সেপ্টেম্বর জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছর পর্যন্ত চার বছরের জন্য সেতুটিতে টোল আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, তৈলারদ্বীপ সেতু দিয়ে চট্টগ্রাম, পটিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার মানুষ নিয়মিত চলাচল করেন। এ ছাড়া কক্সবাজারের পেকুয়া, মহেশখালী, চকরিয়া ও কুতুবদিয়া এলাকার মানুষ এবং পণ্যবাহী যানবাহনের জন্যও সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, নতুন করে টোল আদায়ের উদ্যোগ নেওয়ায় সাধারণ মানুষ এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।

রিটকারী আরও বলেন, ‘আদালত টোল আদায়সংক্রান্ত কার্যক্রমে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখন টোল আদায়ের সব কার্যক্রম বন্ধ রাখা উচিত।’

তিনি জানান, আদালতের আদেশের সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। কপি হাতে পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তা জমা দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, তৈলারদ্বীপ সেতু দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। সেতু দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন করে টোল আরোপ করা হলে এর প্রভাব সরাসরি পড়বে যাত্রী ও পরিবহন খাতে। তাই আদালতের নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

তারা সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে হাইকোর্টের নির্দেশনা মেনে সেতুতে টোলসংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের শান্ত ও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল নেতা মাহফুজুর রহমান, প্রকৌশলী গোলাম সরওয়ার, পরিবহন মালিক ও সংগঠনের নেতা ওয়াজি উল্লাহ, মাহমুদুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, নুরুল ইসলাম কোম্পানি, আবদুল্লাহ আল ইমরান ও এসহান উল্লাহ টিটুসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad