ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে পল্টন থানায় করা মামলার আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। ঢামেকের নাক, কান, গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান মো. আসাদুর রহমানকে মারধর করে রক্তাক্ত জখমের অভিযোগে গ্রেপ্তার আসামি জীবন ওরফে আদিলকে(২২) রিমান্ডে পাঠানোর এ আদেশ দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে রিমান্ডের এই আদেশ দেন।
এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. আতিকুজ্জামান আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামি জীবনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
এদিন আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিলের আবেদন করলে রাষ্ট্র পক্ষ থেকে বিরোধিতা করা হয়।উভয়পক্ষের শুনানি শেষে রিমান্ডের আদেশ দেয় আদালত।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে শান্তিনগরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার সময় মো. আসাদুর রহমানের গতিরোধ করে আসামি জীবনসহ অজ্ঞাত আরও পাঁচ থেকে ছয় জন ব্যাক্তি। কারণ জানতে চাইলে আসামিরা তাকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে মারধর করতে থাকেন। এতে তার ডান চোখ, দুই ঠোঁটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়।
এ সময় ভুক্তভোগী চিকিৎসকের চিৎকারে পথচারীরা এগিয়ে এসে জীবনকে আটক করলেও অন্য আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামিকে হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনায় গত ১৮ আগস্ট ভুক্তভোগী চিকিৎসক মো. আসাদুর রহমান বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন, আসামিরা সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সদস্য। আসামিরা কী কারণে ভুক্তভোগী চিকিৎসককে মারধর করেছে তা জানা, পলাতক আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আসামি অন্য কোনো অপরাধ চক্রের সাথে জড়িত কি না, তা জানতে আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন।


