জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৩০০ বিধিতে বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি জানান, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুর–এই তিনটি অঞ্চল ব্যতীত খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং ময়মনসিংহ বিভাগে সংক্রামিত মানুষের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি, যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এসব বিভাগে এডিস মশার বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল প্রজননক্ষেত্রও তুলনামূলক বেশি সনাক্ত হয়েছে।
বছরের শুরু থেকে চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত দেশে মোট ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং এই ভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছেন ১৩০ জন। বর্তমানে ৩ হাজার ২১৮ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর–এই তিন মাস ডেঙ্গুর সংক্রমণের জন্য সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়। এখনই উপযুক্ত প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ না নিলে সামনে রোগীর সংখ্যা বর্তমানে আক্রান্তের দ্বিগুণে গিয়ে পৌঁছাতে পারে।
এই সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর জরুরি বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ পরিচালনার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।
একযোগে দেশের ১১টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৬৪টি জেলা এবং ৫০৩টি উপজেলায় এই কর্মসূচি পালিত হবে। বিডি ক্লিন, রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউটস, রোভার স্কাউটস, গার্ল গাইডস ও বিএনসিসির মতো তরুণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো মাঠপর্যায়ে পরিচ্ছন্নতার কাজে সম্পৃক্ত থাকবে।
জনপ্রতিনিধিদের প্রতি নিজ নিজ এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বসতবাড়ির আঙিনা, ছাদ এবং প্রাঙ্গণে পানি জমে থাকা স্থানগুলো নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা সুসংহত করতে উপজেলা হাসপাতালগুলোতে পাঁচটি করে শয্যা ডেঙ্গু রোগীদের জন্য সংরক্ষিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে প্রয়োজনীয় কিট ও স্যালাইনের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, চিকিৎসাধীন রোগীদের সার্বক্ষণিক মশারির ভেতরে রেখে চিকিৎসা নিশ্চায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন কোনো মশা সংক্রামিত রোগীকে কামড়ে সুস্থ মানুষের শরীরে এই ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে না পারে।


