ঢাকা-১১ আসনের আনন্দ নগর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে অস্বাভাবিক ভিড় ‘কৃত্রিমভাবে তৈরি’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এক প্রিজাইডিং কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের ছয়টি কেন্দ্র মিলিয়ে গড় ভোটার উপস্থিতি ছিল ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
শুরু থেকেই কেন্দ্র প্রাঙ্গণে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিদ্যালয়ের ভেতর থেকে শুরু করে বাইরে পর্যন্ত ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
কেন্দ্র নং ৮৬-এর প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এম এ মহিবুর রহমান সরাসরি অভিযোগ করে টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘এত ভোটার থাকার কথা নয়। ভিড় কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে। প্রকৃত ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দিতেই এটি করা হতে পারে।’
তিনি জানান, বিষয়টি তিনি ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করেছেন এবং প্রয়োজন হলে সেনা সদস্য মোতায়েন করা হবে বলে আশ্বাস পেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কেন্দ্রে সীমিত সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য উপস্থিত ছিলেন, অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ছিল না।
তবে একই বিদ্যালয়ের কেন্দ্র নং ৯০-এর প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ভোটগ্রহণ স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণভাবে চলছে, কোনো বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি।’
অব্যবস্থাপনার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যবস্থাপনা সমস্যা নেই। কেন্দ্রের প্রবেশপথ সরু হওয়ায় ভিড় হচ্ছে।’
একই বিদ্যালয়ে দায়িত্বে থাকা দুই কর্মকর্তার পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে কেন্দ্রটির প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটাররাও ব্যাপক উপস্থিতির কথা জানিয়েছেন। মায়েন আহমেদ টাইমসকে বলেন, মানুষের উৎসাহের কারণে ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। তবে দুর্বল ভিড় ব্যবস্থাপনার কারণে ভোটারদের ভোগান্তি বাড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
২১ বছর বয়সী ভোটার শাফিন জানান, তিনি সকাল ৮টায় এসে একই ধরনের ভিড় দেখেছেন। তার দাবি, ভোট শুরুর পর থেকেই পরিস্থিতি একই রয়েছে। ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
আনন্দ নগর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে মোট নিবন্ধিত ভোটার ১৯ হাজার ২৯০ জন। এর মধ্যে পুরুষ নয় হাজার ৭৯১ জন এবং নারী নয় হাজার ৪৯৯ জন।
ছয়টি কেন্দ্রের বণ্টন
পুরুষ কেন্দ্র: ৮৫-এ পুরুষ ভোটার তিন হাজার ১৪৯ জন; কেন্দ্র ৮৬-এ তিন হাজার ১০২ জন; কেন্দ্র ৮৯-এ তিন হাজার ৫৪০ জন।
নারী কেন্দ্র: ৮৭-এ নারী ভোটার তিন হাজার ৮৫ জন, কেন্দ্র ৮৮-এ তিন হাজার ৫৩ জন; কেন্দ্র ৯০-এ তিন হাজার ৩৬১ জন।
সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, কেন্দ্র ৮৫-তে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ২২ শতাংশ (নিশ্চিত করেন মো. মহসিন উদ্দিন); কেন্দ্র ৮৬-এ দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ২৯ দশমিক ৬ শতাংশ (এম এ মহিবুর রহমান); কেন্দ্র ৮৭-এ বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ২৯ দশমিক ১৮ শতাংশ (ওয়াদুদুর রহমান); কেন্দ্র ৮৮-এ বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ২৩ শতাংশ (আব্দুর রহমান); কেন্দ্র ৮৯-এ বেলা ১১টা পর্যন্ত ১৮ শতাংশ (শফিউল আলম); এবং কেন্দ্র ৯০-এ বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত ২২ শতাংশ (মো. মনোয়ার হোসেন)।


