গ্যাসসংকটে ছয় মাস বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা লিমিটেডে (সিইউএফএল) ইউরিয়া উৎপাদন আবার শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার উৎপাদন শুরুর পর ধীরে ধীরে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ছে। কারখানাটি পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরলে দৈনিক প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের আশা করছেন কর্মকর্তারা।
প্রাকৃতিক গ্যাসের তীব্র সংকটে গত ৪ মার্চ কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর উৎপাদন পুনরায় শুরু হয়। প্রথম দিন ৫২০ টন ইউরিয়া উৎপাদন হয়। বুধবার উৎপাদন আরও বাড়ে বলে জানিয়েছেন কারখানার কর্মকর্তারা।
সিইউএফএলের প্রধান রসায়নবিদ ও অপারেশন বিভাগের প্রধান উত্তম চৌধুরী টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, গ্যাস সরবরাহ পুনরুদ্ধারের পর সফলভাবে কারখানাটিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে।
পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের আশ্বাস পাওয়ার পর সিইউএফএল কর্তৃপক্ষ প্রথমে ৪ সেপ্টেম্বর উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা করেছিল। তবে কয়েক মাস যন্ত্রপাতি বন্ধ থাকায় পুনরায় চালুর সময় কারিগরি সমস্যা দেখা দেয়। এতে উৎপাদন শুরু করতে আরও সময় লাগে বলে জানান উত্তম চৌধুরী।
বর্তমানে সিইউএফএল দৈনিক প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস পাচ্ছে। কর্মকর্তাদের মতে, এই পরিমাণ গ্যাসে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব।
তবে ভবিষ্যতে গ্যাস সরবরাহের ধারাবাহিকতা সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও আবাসিক খাতে গ্যাসের সংকট দেখা দিলে সরকার গ্যাস বরাদ্দে পরিবর্তন আনতে পারে।
উত্তম চৌধুরী বলেন, জাতীয় প্রয়োজন বা বিদ্যুৎ ও আবাসিক খাতে গ্যাসের সংকট দেখা দিলে সরকার যে নির্দেশনা দেবে, সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত সিইউএফএলে বর্তমানে অনুমোদিত জনবলের বিপরীতে প্রায় ৬০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
প্রায় ৩৮ বছর ধরে চালু থাকা কারখানাটি প্রাকৃতিক গ্যাসকে প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন করে। গত দুই বছরে যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাসসংকটের কারণে কারখানাটিতে কয়েক দফা উৎপাদন বন্ধ হয়েছে।
সিইউএফএলের দৈনিক ইউরিয়া উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ১০০ টন এবং অ্যামোনিয়ার ৮০০ টন। ছয় মাস পর উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ায় কারখানাটির উৎপাদন সক্ষমতার বড় একটি অংশ কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ ও সরকারের গ্যাস বরাদ্দের সিদ্ধান্তের ওপর উৎপাদন অব্যাহত রাখা অনেকাংশে নির্ভর করবে।


