চবিতে দেয়ালজুড়ে ছাত্রলীগের পোস্টার, ক্ষুব্ধ ছাত্রদল-শিবির

চবিতে দেয়ালজুড়ে ছাত্রলীগের পোস্টার, ক্ষুব্ধ ছাত্রদল-শিবির
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বিভিন্ন দেয়ালে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পোস্টার
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বিভিন্ন দেয়ালে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চবি শাখার ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির।

সোমবার সকালে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ব্যানারগুলো দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সোমবার দিবাগত রাতে পোস্টারগুলো লাগানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ঝুপড়ি, পুরাতন আইইআর, ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স, চবি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিভিন্ন দেয়ালে এসব পোস্টার লাগানো হয়। পোস্টারগুলোতে বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল। পোস্টারে নিচে লেখা ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলা ঝুপড়ির এক দোকানি বলেন, ‘আমি সকাল ১০টায় দোকানে এসে দেখি দেয়ালে ছাত্রলীগের একটা পোস্টার লাগানো রয়েছে আর একটি পোস্টার অর্ধেক ছেঁড়া। পরে শিক্ষার্থীরা ঝুপড়ির বাকি সব পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন।’

জানতে চাইলে চাকসু এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, ‘সম্প্রতি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা পোস্টারিং ও গুপ্ত তৎপরতার মাধ্যমে বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। যেহেতু সংগঠনটি আইনত নিষিদ্ধ এবং শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে তাদের ক্যাম্পাস থেকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তাই এ ধরনের কার্যক্রমকে শিক্ষার্থীরা ইতিবাচকভাবে নিচ্ছেন না। চাকসুর কোনো নির্বাহী ক্ষমতা না থাকায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আনা হয়েছে। ক্যাম্পাসে এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানাই।’

আরও পড়ুন

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, ‘একটি সংগঠন নিষিদ্ধ হওয়ার পরও যদি তারা কার্যক্রম চালিয়ে যায়, তবে একজন ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে আমি আমার অবস্থান থেকে প্রতিবাদ চালিয়ে যাব। তবে আমি মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নিলে এবং যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হলে, নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যরা এমন কার্যক্রম পরিচালনা করতে সাহস পেত না।’

শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, ‘আগেও ছাত্রলীগের কার্যক্রমের বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে আমরা প্রক্টর অফিসে গিয়েছিলাম। প্রক্টরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি ও ভিসিকে অবহিত করেছিলাম। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বরং তাদের কাছে বিষয়টি নিয়ে এক ধরনের নির্বিকার মনোভাব লক্ষ্য করা গেছে।’

পারভেজ আরও বলেন, ‘প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে ছাত্রলীগের গোপনে থাকা সদস্যরা বিভিন্ন ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছে, যারই একটি অংশ আজকের ঘটনার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা কর্মসূচি দেওয়ার কথা ভাবছি। তবে তার আগে আবারও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে যাব এবং প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, তা দেখে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, ‘আমরা পুলিশ সূত্রে জানতে পারি, কলা ঝুপড়ি এলাকায় পোস্টার লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। তবে কারা পোস্টার টানিয়েছে বা কাকে কেন্দ্র করে এটি করা হয়েছে, এ বিষয়ে আমাদের কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পোস্টার সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট স্থানে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় জড়িতদের শনাক্ত করা কঠিন হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরাই এ কাজটি করেছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad