চট্টগ্রামে ভেজাল, পচা-বাসি ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগে ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে নয় লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। একই অভিযানে একটি মশলা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার নগরের চকবাজার বালি আর্কেড, লালখান বাজার ও চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ এলাকায় দিনব্যাপী অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত চট্টগ্রাম মহানগরের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফা।
নিরাপদ খাদ্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অভিযানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভেজাল খাদ্য, পচা-বাসি উপকরণ সংরক্ষণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রিসহ বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়।
মহানগরের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম বলেন, অভিযানে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের দায়ে ১৯টি খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানকে মোট নয় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
লালখান বাজারের হাইওয়ে সুইটস অ্যান্ড বেকারিতে আগের তুলনায় পরিবেশের দৃশ্যমান উন্নতি দেখা গেলেও বেশ কিছু অনিয়ম পাওয়া যায়। সেখানে মানহীন ঘি দিয়ে মিষ্টি তৈরি, মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই টোস্ট-বিস্কুট বিক্রি, স্যাঁতসেঁতে মেঝে, অপরিষ্কার পাত্রে ছানা প্রক্রিয়াকরণ এবং কিছু অংশে তেলাপোকার উপস্থিতি পাওয়া যায়। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের জসিম মশলা মিলে আরও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। সেখানে কাঠের গুঁড়া মিশিয়ে মশলা তৈরি, অননুমোদিত রং ব্যবহার এবং নোংরা ও পচা মরিচ দিয়ে মশলা তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযানে সরকারি কাজে সহযোগিতা না করার অভিযোগও ওঠে। পরে সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয় এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চকবাজারের বালি আর্কেডে অবস্থিত ফুড কোর্টের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও অভিযান চালানো হয়। সেখানে পচা আলু ও পচা সসেজ ব্যবহার করে খাবার তৈরির অভিযোগে কেএফসিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই এলাকায় ফুচকা খাদককে পচা আলু ও পচা আম ব্যবহার করে খাবার তৈরির দায়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
স্ট্রিট ইটসকে পোড়া তেল ব্যবহার, খবরের কাগজে খাবার পরিবেশন, খামিতে ময়লা এবং কাঁচা ও রান্না করা খাবার একই ফ্রিজে রাখার কারণে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

গ্রিল মাস্টার অ্যান্ড পাপাচিনোতে পচা গাজর, মেয়াদোত্তীর্ণ চাইনিজ সবজি, পচা পেঁয়াজ, নিম্নমানের সস এবং খোলা অবস্থায় মাশরুম ও ব্ল্যাক অলিভ সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। গরম খাবার অস্বাস্থ্যকর প্লাস্টিকের বক্সে সংরক্ষণেরও অভিযোগ ছিল। প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
লাজজাতকে মেয়াদোত্তীর্ণ মুরগি ও ব্রেডক্রাম্ব সংরক্ষণ, অননুমোদিত রং মেশানো মরিচ, কাঁচা মাংসের সঙ্গে ফ্রিজারে বরফ তৈরি, নিম্নমানের সস ব্যবহার ও নষ্ট বাদাম রাখার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
দিল্লি দরবার অ্যান্ড সালাদ লাভার্সকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে অপরিষ্কার পাত্রে রান্না, কাঁচা ও রান্না করা মাংস একসঙ্গে সংরক্ষণ, খোলা অবস্থায় রান্না করা খাবার রাখা, অননুমোদিত রং মেশানো মরিচ ও মলযুক্ত মরিচ সংরক্ষণ, পচা আলু সিদ্ধ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ফল, দই ও আম ফ্রিজে রাখার অভিযোগ পাওয়া যায়।
চিলিসকে কাঁচা ও রান্না করা খাবার একই ফ্রিজে রাখা, চুলা থেকে ময়লা খাবারে পড়া, রক্তমাখা অপরিষ্কার মুরগি সংরক্ষণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এলিগ্যান্ট বামকে পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত মাংস, পচা মাশরুম ও পচা চাইনিজ সবজি ব্যবহার করে খাবার তৈরির দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দ্য বোন চাইনা ও ওয়াফেল কিংকে যথাক্রমে ২৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ ও রক্তমাখা মুরগির হাড়-মাংস সংরক্ষণের কারণে।
৯ ক্যান্ডেল ২.০-কে একই ধরনের অনিয়ম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে ২৫ হাজার টাকা এবং হটডগ অ্যান্ড কোংকে পাঙাশ মাছকে ‘ডরি ফিশ’ নামে বিক্রি, রক্তমাখা হাড়-মাংস ও মেয়াদোত্তীর্ণ খামি সংরক্ষণের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
দ্য ওয়াফেলকে মেয়াদোত্তীর্ণ ডুডু, মাংসের সঙ্গে বরফ তৈরি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে ১০ হাজার টাকা এবং টমিয়ামকে রান্না করা অতিরিক্ত টকযুক্ত স্যুপ ফ্রিজে রাখার দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
দ্য চিকেন বক্সকে মেয়াদোত্তীর্ণ নাশপাতি ও রক্তমাখা হাড়-মাংস সংরক্ষণের দায়ে ২৫ হাজার টাকা, ফুচকাওয়ালা অ্যান্ড জুসবারকে পচা গাজর এবং মেয়াদোত্তীর্ণ মিষ্টি ও টক দই রাখার দায়ে ৫০ হাজার টাকা এবং দ্য মাঞ্চগাইকে পচা মাংস এবং কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে সংরক্ষণের দায়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


