সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কল্যাণের কাছে আয়কর বাবদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করা সংক্রান্ত রায় স্থগিত করেনি আপিল বিভাগ।
হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে গ্রামীণ কল্যাণের পৃথক আবেদন সোমবার কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন আপিল বিভাগেরে চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুস সামাদ আজাদ। গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, চেম্বার জজ আদালত বলেছে, যেহেতু হাইকোর্ট এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ রায় দেয়নি এবং আমরা পাইনি। সুতরাং এ ব্যাপারে আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করব না। রায় এলে এবং রায় দেখলে তারপর হস্তক্ষেপ করব।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুস সামাদ আজাদ বলেন, গ্রামীণ কল্যাণ রায় স্থগিত করার আবেদন করেছিল। কিন্তু চেম্বার জজ আদালত কোনো আদেশ দেয়নি। ফলে হাইকোর্টের রায় বহাল আছে।
এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর গ্রামীণ কল্যাণের কাছে আয়কর বাবদ এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে সিদ্ধান্ত দেয় হাইকোর্ট।
এ বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া এবং বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করে। রায়ে আয়কর বাবদ ৬৬৬ কোটি টাকা পুনর্নির্ধারণ করে এনবিআরের আদেশের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের দুটি রিট খারিজ করা হয়।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ এ বিষয়ে দায়ের করা রিট খারিজ করে। পরে ওই রায় প্রত্যাহার করে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ। কারণ হিসেবে বলা হয়, বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক একসময় এসব মামলায় সরকারের পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ কারণে রায় প্রত্যাহার করে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। এরপর মামলাগুলো শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চে পাঠানো হয়।
পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে কর বাবদ প্রদেয় অর্থের দাবি জানানো হয়। এ দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট করে গ্রামীণ কল্যাণ। ২০২৪ সালে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছিল, পাঁচটি করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে কর বাবদ ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি দাবি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রায় জারি করে। ১০ সেপ্টেম্বর সেই রুল খারিজ (ডিসচার্জ) করা হয়। গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস, তিনি ২০২৪ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত নন বলে জানা গেছে।


