সরকার সর্বশক্তি দিয়ে আইন সবার জন্য সমান তা নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত ১৭ বছর দেশে আইনের শাসনকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটিয়ে দেশে ধীরে ধীরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।
বৃহস্পতিবার বিকালে ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট কোনো দলের নাম না নিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে তাদেরকে ‘গুপ্তদল’ হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে তাদের কী ভূমিকা ছিল, মানুষ তা ভোলেনি। সে সময় তারা যেভাবে আমাদের মা-বোনদের ওপর নির্যাতন ও হয়রানি চালিয়েছিল, বর্তমানেও তাদের সেই নারী নির্যাতন শুরু হতে দেখছি। এই গুপ্তবাহিনীর কিছু সদস্য বর্তমানেও নারীদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে।’
‘গুপ্তদলের নেতারা সরকারকে খুব নসিহত করছে’ উল্লেখ করে তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দয়া করে আগে নিজের ঘরের দিকে তাকান। নিজের লোকজনের নারী নির্যাতন আগে সামাল দিন, তারপর অন্যকে পরামর্শ দিতে আসবেন।’
জনগণের ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছর ধরে স্বৈরাচার দেশের মানুষের টুঁটি চেপে ধরে রেখেছিল। দেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, কথা বলতে দেয়নি। তবে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে সেই স্বৈরাচার দেশ থেকে বিদায় নিয়েছে। গত নির্বাচনে জনগণ যেহেতু বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে, তাই আইন সকলের জন্য সমান—এই নীতিতে সরকার অটল থাকবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, ‘সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়ন এবং বন্ধ মিল-কারখানা চালুর যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেগুলোতে বিঘ্ন ঘটলে ক্ষতি কার হবে? ক্ষতি এই দেশের মানুষেরই হবে, কোনো বিদেশি মানুষের হবে না।’


