কক্সবাজারে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে বন্ধু খুন, আটক ৩

কক্সবাজারে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে বন্ধু খুন, আটক ৩
নিহত হামিদ।
Advertisement
Advertisement

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক বন্ধুর ছুরিকাঘাতে অপর বন্ধু খুন হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবকসহ তার মা ও বোনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লরাবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত হামিদ (১৭) ওই এলাকার আবুল কালামের ছেলে। তিনি মোবাইল মেরামতের কাজ করতেন।

অভিযুক্ত মো. শামীম (২২) একই এলাকার মো. সিদ্দিকের ছেলে এবং পেশায় টমটমচালক। আটক অন্যরা হলেন- শামীমের মা ফাতেমা বেগম (৪০) ও বোন রুমেনা আক্তার (২০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামিদ ও শামীম প্রতিবেশী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। কিছুদিন আগে শামীম তার একটি মোবাইল ফোন হামিদের কাছে মেরামত করান। তবে মেরামতের টাকা পরিশোধ না করায় এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন

জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে শামীম তার একটি মোবাইল মেরামত করায়। কিন্তু নির্ধারিত টাকা পরিশোধ না করে সময়ক্ষেপণ করছিলেন। মঙ্গলবার সকালে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাদের দুই জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে শামীমের মা ও বোন ঘটনাস্থলে এসে হামিদকে টানা-হেঁচড়া করেন। পরে শামীম হঠাৎ করে হামিদের পেটের পাশে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে শামীমকে আটক করে। একইসঙ্গে তার মা ও বোনকেও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি।’

এদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা হামিদকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি বলেন, ‘তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এলাকায় এমন মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আগে ঘটেনি। এতে এলাকাজুড়ে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।’

ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শামীম এবং ঘটনায় জড়িত তার মা ও বোনকে আটক করে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় মামলা হয়েছে।

মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার হাসপাতালে রাখা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad