ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। তবে বুধবার প্রকাশিত জরিপে কোনো পক্ষের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখা যায়নি। ফলে তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধের পরও ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা পুরোপুরি হারাননি নেতানিয়াহু।
জরিপ অনুযায়ী, পরবর্তী পার্লামেন্টে বর্তমান সরকারের বিরোধীরা সম্মিলিতভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে। তবে আরব নেতৃত্বাধীন দলসহ মতাদর্শগতভাবে ভিন্ন অবস্থানে থাকা বিরোধী দলগুলো একজোট হয়ে সরকার গঠন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এমন জোট গঠনের উদ্যোগ সফল হলেও সমঝোতায় পৌঁছাতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে।
এপির খবরে বলা হয়, বুধবার ভোরে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহুকে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখা যায়। গত তিন বছরের সামরিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বহাল থাকার পক্ষে অবস্থান নেন। তবে ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশের প্রতিনিধিত্বকারী আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনাকে তিনি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে আখ্যা দেন।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের একটি শক্তিশালী, ডানপন্থী ও জাতীয়তাবাদী সরকার গঠন করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইসরায়েলকে বিপদের মুখে ফেলে ইহুদিবাদবিরোধী আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল সরকার গঠন করা যাবে না।’
নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রত্যাবর্তনের পথ কঠিন হয়ে উঠলেও তার বক্তব্যে ক্ষমতা ছাড়ার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। বরং আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থান বিরোধীদের সম্ভাব্য জোট গঠনের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে। শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচন আয়োজনের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে, যা নেতানিয়াহুকে আবারও রাজনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ দিতে পারে।
নেতানিয়াহুর সাবেক সামরিক প্রধান ও মধ্যপন্থী নেতা গাদি আইজেনকট আরব দলগুলোর সঙ্গে নির্দিষ্ট শর্তে জোট গঠনের সম্ভাবনা খোলা রেখেছেন। তবে তার সম্ভাব্য কয়েকজন জোটসঙ্গী এ ধরনের সহযোগিতার বিরোধিতা করেছেন।
নেতানিয়াহুর জোটে ধাক্কা, তবে পরাজয় নয়
নেতানিয়াহু অতীতের নির্বাচনগুলোতেও শেষ মুহূর্তে অপ্রত্যাশিত সাফল্য পেয়েছেন। এবার তার সঙ্গে থাকা কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ এবং অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের সামরিক বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি ভোটারদের ক্ষুব্ধ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোটের আসন কমে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। এতে সরকার গঠনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তার দল লিকুদ পার্টি আগের ৩২টি আসন থেকে কমে প্রায় ২৭টি আসন পেতে পারে বলে জরিপে আভাস দেওয়া হয়েছে। তবে আসনসংখ্যা কমলেও দলটি পার্লামেন্টের বৃহত্তম দল হিসেবে থাকতে পারে এবং সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকতে পারে।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের কথা। এর মধ্যে কয়েক লাখ অনুপস্থিত ভোটারের ব্যালট গণনা বাকি রয়েছে। এসব ভোটের কারণে জরিপের পূর্বাভাসের সঙ্গে চূড়ান্ত ফলাফলে পার্থক্য হতে পারে।
জরিপের হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট এবং আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী পক্ষ উভয়েই প্রায় ৫১টি করে আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৮টি আসন পেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ কিংবা নতুন নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজনৈতিক দর-কষাকষি চলতে পারে।
পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সবচেয়ে সহজ পথ হতে পারে আইজেনকটের সঙ্গে আরব দলগুলোর জোট। তবে এতে বিরোধী শিবিরের অন্য দলগুলো দূরে সরে যেতে পারে, যা সরকার গঠনের সম্ভাবনা আরও কঠিন করে তুলবে।
অনিশ্চিত ফলাফলের মধ্যেও নেতানিয়াহু ও আইজেনকট, উভয়ের নির্বাচনী সদর দপ্তরে ছিল উৎসবের আমেজ। বুধবার ভোরে দেওয়া বক্তব্যে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দেন আইজেনকট। তিনি সরকার গঠনের অঙ্গীকার করে ইসরায়েলিদের জন্য ‘আশার নতুন যুগ’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন।
সমর্থকদের উল্লাসের মধ্যে আইজেনকট বলেন, ‘আজ ইসরায়েল আগামী বছরগুলোতে দেশকে কে নেতৃত্ব দেবে, তা নিয়ে এক গণরায়ে অংশ নিয়েছে। জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’


