ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ আংশিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা

ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ আংশিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা
লেবাননে ধংসস্তুপে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন জরুরি সহায়তা কর্মীরা। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

ইসরায়েল ও ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে আংশিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে লেবানন সরকার। স্থানীয় সময় সোমবার যুদ্ধবিরতির তথ্য নিশ্চিত করে ওয়াশিংটনের লেবানন দূতাবাস।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের এই সমঝোতা লেবাননে চলমান সংঘাত পুরোপুরি শেষ করবে না। তবে এর আওতায় ইসরায়েল বৈরুত এবং হিজবুল্লাহ-নিয়ন্ত্রিত উপশহরগুলোতে হামলা থেকে বিরত থাকবে। বিপরীতে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের আক্রমণ বন্ধ রাখবে।

তবে এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে সোমবার রাতেও দুই পক্ষের সংঘর্ষ চলে। মূলত গত মার্চে দক্ষিণ লেবাননেই হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ফের যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল।

মঙ্গলবার ভোরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, লেবানন থেকে উত্তর ইসরায়েলের দিকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে দুই পক্ষের মধ্যস্থতাকারী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘হিজবুল্লাহ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইসরায়েলের ওপর হামলা না চালানোর অঙ্গীকার করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে এবং কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট কখনও সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সংগঠনটির সঙ্গে কথা বলেননি।’

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বৈরুতে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি শেষ করা সেনাবাহিনীকে পিছিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।

তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পর নেতানিয়াহু বলেন, ‘দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। সেখানে স্থলবাহিনী এখন জাহরানি নদীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।’

আরও পড়ুন

গত ২৫ বছরের মধ্যে এটিই লেবাননের ভেতরে ইসরায়েলের সবচেয়ে গভীর অনুপ্রবেশ।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহর আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ বলেছেন, লেবাননের পুরো ভূখণ্ডে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হলে এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পথ তৈরি হলে তার সংগঠন তা সমর্থন করবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেননি, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামলা বন্ধ করবে কি না।

লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে এক বার্তায় জানানো হয়, আগামী বুধবার ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনার সময় তারা এই যুদ্ধবিরতির পরিধি আরও বাড়ানোর চেষ্টা করবে। এতে তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটানোর নতুন প্রচেষ্টার পথ খুলে যেতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকস্মিক ভাবে ইরানে হামলা চালালে ২ মার্চ ওই আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়ায় ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি নিঃসন্দেহে সব ফ্রন্টের জন্য প্রযোজ্য, যার মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত।’

ইরানও বরাবরই বলে এসেছে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অবসান নিয়ে কোনো সমঝোতা সম্ভব নয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান ও লেবানন দুটি সংঘাতই আলাদা বিষয়।

এর আগে সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ শান্তি আলোচনা স্থগিত করছে এবং লেবাননের যুদ্ধের কারণে এপ্রিলের শুরু থেকে মোটামুটি কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতিও শেষ করে দিতে পারে।

তবে ইরানের কোনো কর্মকর্তা সরাসরি এসব প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করেননি। ট্রাম্প এক টেলিভিশন প্রতিবেদককে বলেন, তিনি ইরানের কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো বার্তা পাননি। একই দিনে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শান্তি আলোচনা ‘খুবই একঘেয়ে’ হয়ে উঠেছে এবং আলোচনা ভেঙে গেলে তিনি তাতে কোনো গুরুত্ব দেন না।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সত্যিই পরোয়া করি না, একেবারেই পরোয়া করি না।’

এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস শাখার প্রধান ইসমাইল কানি হুমকি দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে চলমান অবরোধ আরও বিস্তৃত করে লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও ছড়িয়ে দেওয়া হতে পারে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad