আর্থিক অনিয়মের রায়ের বিরুদ্ধে ম্যানচেস্টার সিটির আপিল

আর্থিক অনিয়মের রায়ের বিরুদ্ধে ম্যানচেস্টার সিটির আপিল
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে ম্যানচেস্টার সিটি ফুটবল ক্লাব।

শুক্রবার ক্লাবটি জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তারা আপিল আবেদন দাখিল করেছে।

সম্প্রতি স্বাধীন কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশের পর আপিলের সিদ্ধান্ত জানায় সিটি। কমিশনের প্রতিবেদনে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনায় ক্লাবটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

সিটি অবশ্য শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ক্লাবের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই রায়ে আইন, নীতি ও তথ্যের ক্ষেত্রে একাধিক স্পষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ ভুল রয়েছে। ফলে এটি নির্ভরযোগ্য নয়।’

২০১৮ সালে শুরু হওয়া এই মামলায় মঙ্গলবার রায় প্রকাশ করে প্রিমিয়ার লিগ। এতে বলা হয়, গুরুতর আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের সব অভিযোগে সিটি দোষী।

তবে এখনো কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি। সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে তিরস্কার, জরিমানা, পয়েন্ট কর্তন ও প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কারের মতো ব্যবস্থা রয়েছে। ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দলকে বহিষ্কার করা হয়নি।

সিটি বলেছে, ‘প্রিমিয়ার লিগের আনা অভিযোগে ক্লাবটি নির্দোষ। এই মামলায় ক্লাবের সব অবস্থানের পক্ষে অকাট্য প্রমাণ রয়েছে।’

১২ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে শুনানি

প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম অনুযায়ী, সিটির বিরুদ্ধে রায় দেওয়া তিন সদস্যের কমিশনের চেয়ারম্যান নতুন তিন সদস্যের একটি আপিল বোর্ড গঠন করবেন। বোর্ডের একজন সদস্যকে বিচারিক পদে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

আপিল বোর্ড শুনানির সময় নির্ধারণ করবে। আপিল দাখিলের ১২ সপ্তাহের মধ্যে শুনানি শেষ করার কথা। শুনানি সর্বোচ্চ টানা পাঁচ দিন চলতে পারবে।

আরও পড়ুন

শাস্তির বিষয়টি আলাদা ও গোপনীয় শুনানিতে নির্ধারণ করা হবে। আপিলের সিদ্ধান্তের আগে কোনো শাস্তি কার্যকর করা যাবে কি না, সে বিষয়ে প্রিমিয়ার লিগ এখনো কিছু জানায়নি।

লিগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পুরো প্রক্রিয়া ‘যত দ্রুত সম্ভব’ শেষ করতে চায়।

‘ভুয়া’ বাণিজ্যিক চুক্তির অভিযোগ

কমিশনের তদন্তে বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সিটি ‘ভুয়া’ বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে নিজেদের আয় কৃত্রিমভাবে বাড়িয়েছে। এর পরিমাণ ১০০ কোটি ডলারের বেশি। এর মাধ্যমে আর্থিক নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে গিয়ে বিশ্বের শীর্ষ খেলোয়াড়দের দলে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে ক্লাবটি।

এই সময়েই সিটির সাফল্যের বড় পরিবর্তন আসে। ২০১২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আটবার প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতে ক্লাবটি।

কমিশনের হিসাবে, সিটির বিরুদ্ধে ১১৫টির বেশি অভিযোগ ছিল। এর মধ্যে ৮০টি ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগ ছিল আরও ৩৫টি।

প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড মাস্টার্স এই মামলাকে লিগের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শাস্তিমূলক মামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

স্পনসরশিপের অর্থের উৎস নিয়ে আপিল

আপিলে আবুধাবিভিত্তিক স্পনসরশিপ চুক্তির অর্থের উৎস গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।

কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লাবের হিসাবে দেখানো ৯৪৯ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন পাউন্ডের স্পনসরশিপের মধ্যে আবুধাবির স্পনসররা দিয়েছে ১১৯ দশমিক ২৫ মিলিয়ন পাউন্ড। বাকি ৮৩০ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়েছে আবুধাবি ইউনাইটেড গ্রুপ বা এডিইউজি। ২০০৮ সালে শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের প্রতিষ্ঠানটি ম্যানচেস্টার সিটি কিনেছিল।

শেখ মনসুর সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসক পরিবারের সদস্য।

সিটির দাবি, স্পনসরশিপ চুক্তির কোনো অংশ এডিইউজি অর্থায়ন করেনি। তাদের বক্তব্য, আবুধাবি সরকার বিভিন্ন সময়ে এসব চুক্তিতে অর্থায়নে সহায়তা করেছে। কমিশনের মতে, এই ব্যাখ্যা সঠিক নয়।

কমিশন বলেছে, অর্থের প্রকৃত উৎস আড়াল করতে ঘটনার অনেক পরে এই ব্যাখ্যা ‘বানানো হয়েছিল’।

সিটির প্রধান নির্বাহী ফেরান সোরিয়ানো কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক অভ্যন্তরীণ ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের পুরো মামলাটি একটি মিথ্যা অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

অভিযোগটি হলো, মালিকের ব্যক্তিগত অর্থ কোনোভাবে গোপনে আবুধাবির কয়েকটি স্পনসরের মাধ্যমে ক্লাবে ঢুকেছে। এটি সত্য নয়।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad