আফগানিস্তানে বিবিসির এফএম রেডিও বন্ধ করল তালেবান

আফগানিস্তানে বিবিসির এফএম রেডিও বন্ধ করল তালেবান
লন্ডনে বিবিসির সদর দপ্তরে সংস্থাটির লোগো। ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর তোলা ছবি। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

আফগানিস্তানে এফএম রেডিও নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত বিবিসি রেডিওর সব ধরনের সম্প্রচার কার্যক্রম স্থগিত করে বন্ধ করে দিয়েছে তালেবান সরকার।

সরকারের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, ক্রমাগত বিধি লঙ্ঘনের কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

২০২২ সালে দুটি আমেরিকান সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধ করার পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম হিসেবে কেবল বিবিসি আফগানিস্তানের ভেতরের নেটওয়ার্ক থেকে সরাসরি সম্প্রচার চালিয়ে আসছিল।

তালেবান সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খুবাইব ঘুফরান স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিবিসি ক্রমাগত কিছু নিয়ম লঙ্ঘন করার কারণে আপাতত দেশজুড়ে এর সমস্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিবিসি জানিয়েছে, ‘সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের জন্য আফগানিস্তানের লাখো সাধারণ মানুষ বিবিসির ওপর নির্ভর করেন। সম্প্রচার পুনরায় চালু করার বিষয়ে আমরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন

একই সঙ্গে পশতু, দরি ও ইংরেজি ভাষায় শর্টওয়েভ, মিডিয়ামওয়েভ রেডিও, অনলাইন এবং স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আফগান শ্রোতাদের জন্য নিরপেক্ষ ও স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি।

বিবিসি আরও উল্লেখ করেছে, তালেবান ক্ষমতায় আসার পর আফগানিস্তানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের শিক্ষা গ্রহণ ও যাতায়াত নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তাদের প্রচারিত নানা শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান, সংবাদ ও অন্যান্য আয়োজন প্রতি সপ্তাহে দেশটির প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ২০ শতাংশেরও বেশি মানুষের কাছে অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছিল।

১৯৮১ সাল থেকে আফগানিস্তানে দীর্ঘ সময় ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল ‘বিবিসি আফগান সার্ভিস’।

২০২১ সালে তালেবান পুনরায় আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশটির গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। বর্তমানে সেখানে রেডিওতে যেকোনো ধরনের গান বাজানো নিষিদ্ধ। গণমাধ্যমে নারী সাংবাদিকদের উপস্থিতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা হয়েছে এবং টিভিতে পুরুষ ও নারী সাংবাদিকদের একসঙ্গে পর্দায় উপস্থিত হওয়া বন্ধ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ কিছুটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ পেলেও দেশের বড় একটি অংশে বিদ্যুৎ না থাকা এবং শিক্ষার নিম্ন হারের কারণে রেডিওই ছিল তথ্য পাওয়ার মূল মাধ্যম।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad