শীত মৌসুমের বাকি আরও কয়েকমাস। এরই মধ্যে চুয়াডাঙ্গার মাঠে মাঠে মুলা, শিম, বাঁধাকপি, ফুলকপিসহ নানা রকম শীতের সবজি চাষের ধুম পড়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার সবজির বাজার চড়া। তাই আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভাল ফলন ও ভাল লাভের আশা করছেন এ জেলার কৃষকরা।
মৌসুমের শুরুতে বাজারে ফসল তুলতে পারলে দামও মেলে ভাল। তাই মাঠে বাড়তি পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকরা।
চুয়াডাঙ্গার হাটবাজারগুলো এখন শীতের আগাম সবজিতে ভরে গেছে। এসব সবজির বেশিরভাগই জেলার চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। বিশেষ করে ঢাকা, সিলেট ও খুলনায় এই সবজির চাহিদা বেশি। কৃষকদের আশা, পুরো মৌসুম জুড়ে তারা ভাল লাভ পাবেন।
সাধারণত তিন ধাপে শীতের সবজি আবাদ হয়। এরমধ্যে শীতের আগে থেকে শুরু করে মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ভাল দাম পেলেও শেষের দিকে কমতে থাকে সবজির মান ও দাম। তাই কৃষকরা আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে শীতের সবজি আবাদ করেন।
কৃষকরা জানান, আগাম শীতের সবজি হিসেবে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিমসহ নানা সবজি এরই মধ্যে বাজারে এসেছে। মৌসুমের শুরুতে সাধারণত এসব সবজির ভাল দাম পান কৃষকরা।
বাজারে থাকা সবজিগুলো কেজিপ্রতি ৫০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
শীতের সবজি চাষে বিঘাপ্রতি খরচ ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। ভালো দাম পেলে প্রতি বিঘা থেকে লাভ আসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর জেলার বাইরে ঢাকা বা সিলেটে পাঠালে লাভ হয়ে যায় দ্বিগুণেরও বেশি।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা গ্রামের কৃষক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সময়ে চাষে যে পরিমাণ খরচ সে হিসেবে কৃষক পর্যায়ে উৎপাদিত জিনিসপত্রের দাম অনেক কম। যদি সরকার কৃষকের উৎপাদিত ফসলের দাম কিছুটা বাড়ায় তা হলে কৃষকরা লাভবান হতো।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মোঃ মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, সবজি চাষ ও চারা উৎপাদনে জেলার কৃষকরা অভিজ্ঞ। তারপরও তাদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বাজারে আগাম শীতকালীন সবজির দামও ভাল পাচ্ছেন কৃষকরা।


