অস্ট্রেলিয়ায় দাবানলে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং তিনশতাধিক বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে।
গত কয়েক দিন ধরে দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া ও নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে দাবানলের কবলে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
বিবিসির খবরে বলা হয়, এরইমধ্যে ভিক্টোরিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। হাজার হাজার ফায়ারকর্মী এবং ৭০টিরও বেশি বিমান আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত রয়েছে। দাবানলের এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অত্যাধিক গরম, শুষ্ক ও ঝোড়ো আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট এই দাবানল আরও কয়েক সপ্তাহ ধরে জ্বলতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
ভিক্টোরিয়ার প্রিমিয়ার জ্যাসিন্টা অ্যালান জানান, রাজ্যজুড়ে বর্তমানে ৩০টি সক্রিয় দাবানল রয়েছে, যার মধ্যে ১০টি বিশেষভাবে উদ্বেগ তৈরি করছে। তিনি বলেন, রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা পর্যন্ত রাজ্যের প্রায় তিন লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমরা রাজ্যজুড়ে আরও কিছু সময় আগুন দেখতে পাব। কাজেই এখনি বলা যাচ্ছে না- সবচেয়ে খারাপ সময় পেরিয়ে গেছে। এখনো এমন আগুন রয়েছে যা ঘরবাড়ি ও সম্পত্তির জন্য হুমকি।’
পুলিশ জানিয়েছে, মেলবোর্ন থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার উত্তরে লংউড শহরের কাছে গোবুর গ্রামে দাবানলে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারকৃত পুড়ে যাওয়া ওই দেহাবশেষের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।
প্রিমিয়ার অ্যালান জলন্ত দাবানলের মধ্য থেকে মরদেহ উদ্ধারে কাজ করা জরুরি সেবাকর্মীদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত কঠিন ও মানসিকভাবে কষ্টকর কাজ। গোবুর সম্প্রদায় শোকাহত।’
কর্তৃপক্ষ বলছে, দাবানলের ধোঁয়ার কারণে মেলবোর্নসহ ভিক্টোরিয়ার বহু এলাকায় বায়ুর মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০১৯–২০২০ সালের ভয়াবহ দাবানলের পর এটি দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় সবচেয়ে মারাত্মক প্রাকৃতিক পরিস্থিতি।
ওই দাবানলে তুরস্কের সমপরিমাণ আয়তনের এলাকা পুড়ে গিয়েছিল এবং ৩৩ জন নিহত হয়েছিল।


