দীর্ঘ ৯৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বাড়ি ফিরলেন নাভিদ নাওয়াজ দীপ্ত (১৩)। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ১৩ তলার ১৩৬৫ নম্বর কেবিনের দরজা খুলে যখন দীপ্তকে হুইলচেয়ারে করে বের করা হলো, করিডোরজুড়ে সবার চোখেমুখে তখন এক অদ্ভুত আনন্দ। স্বজনদের চোখে আনন্দের অশ্রু আর চিকিৎসকদের মুখে স্বস্তির ছাপ। ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোল স্কুলে বিমান আছড়ে পড়ার পর পেরিয়েছে অনেকটা সময়। সেই দুর্ঘটনায় দগ্ধ দীপ্ত টানা তিন মাস লড়েছে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে। কবে সে সুস্থ হয়ে ফিরবে বা আদৌ ফিরবে কিনা তা নিয়েই ছিল অনিশ্চয়তা। ১০ দিন লাইফ সাপোর্টে থেকে, ৩৬ বার অপারেশনের টেবিলের ছুরি-কাঁচি পেরিয়ে সেই দীপ্ত যখন সোমবার বাড়ি…
Author: ফারহানা চৈতি
এক সময় কন্যা সন্তানের জন্ম আনন্দ নয়, ছিল নীরব হতাশা। সমাজে মেয়ে সন্তানকে দেখা হতো এক ধরনের বোঝা হিসেবে। তবে গত দুই দশকে বাংলাদেশের দৃশ্যপটে এই দৃষ্টিভঙ্গিতে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সচেতনতার বিস্তারে কন্যাশিশুর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এখন বেশ ইতিবাচক। তবুও বাস্তবতা ভিন্ন। বিশেষ করে বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে উদ্বেগজনক অবস্থানে রয়েছে। ইউনিসেফ ২০২৩-এর তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ বিশ্বের সেই ১০টি দেশের মধ্যে অন্যতম, যেখানে বাল্যবিবাহের হার সবচেয়ে বেশি। দেশে প্রায় ৪১ দশমিক ৬ মিলিয়ন কন্যাশিশু বাল্যবিবাহের শিকার, যার মধ্যে ২২ দশমিক ৩ মিলিয়ন মেয়ে ১৫ বছরের আগে বিবাহিত হয়েছে। বর্তমানে ১৮ বছরের আগে মেয়েদের বিয়ে হওয়ার হার ৫১ শতাংশ।…
রাত গভীর হলে ঢাকার কারওয়ান বাজারের ফুটপাতে এক প্লাস্টিকের শিটে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে দশ বছরের রুবেল। দিনের বেলা বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করে চলে তার জীবিকা। এভাবেই চলছে তার বেঁচে থাকার লড়াই। সেখানকারই একটি হোটেলে কাজ করছে ১৩ বছরের সোহান। সে বলে, ‘বাপ নাই, আম্মা বাড়িতে থাকে। টাকা কামানোর জন্য এহানে থাকি’। এতো অল্প বয়সে কাজ করার বিষয়ে সে জানায়, ‘কাম না করলে টাকা কই পামু। বাড়িতে আম্মারে টাকা পাঠানো লাগে।’ রুবেল-সোহানের মতো হাজারো শিশু এভাবেই দেশের বিভিন্ন রাস্তার ফুটপাতে বেড়ে উঠছে। যাদের নেই কোন জন্ম সনদ, স্কুলে যাওয়ার সুযোগ। অসুস্থ হলে ডাক্তার দেখানোর সামর্থ্যও নেই তাদের। এদিকে, প্রতি বছর…
`শিশুরা দেশ, সমাজ ও পৃথিবীর ভবিষ্যৎ’– এটি শুধু স্লোগান নয়, অমোঘ সত্য। একটি জাতির উন্নয়ন নির্ভর করে তাদের শিশুদের সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিতের ওপর। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত সুরক্ষা ও ভালোবাসায় যথাযথভাবে গড়ে ওঠে শিশুর ভবিষ্যৎ। কিন্তু পৃথিবীর সব শিশুই এই সৌভাগ্য পায় না। দারিদ্র্য, পরিবারে ভাঙন, মাদক ও সামাজিক নানা বৈষম্য অনেক শিশুকে ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন ধরনের অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। এই শিশুদের ঠিক অপরাধী বলা যায় না। বরং পরিস্থিতির শিকার বললে, তাদের অবস্থানটা বোঝা যায়। পরিস্থিতির শিকার এই শিশুদের জন্যই যাত্রা শুরু করেছিল ‘বাংলাদেশে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র’। শাস্তির পরিবর্তে সংশোধন ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে…
ভোরের আলো ফোটার আগেই দুই বছরের মেয়ে সামায়রার কান্নায় ঘুম ভাঙে কল্যাণপুরের বাসিন্দা সানজিদার। মেয়েকে বুকে জড়িয়ে শান্ত করার মধ্য দিয়েই শুরু হয় তার দিনের ব্যস্ততা। স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী সানজিদার বাকি দিন কাটে সংসারের অন্তহীন কাজে। সকালে বিছানা ছেড়ে সানজিদা পা রাখেন রান্নাঘরে। স্বামীর জন্য নাশতা তৈরি করে তা পরিবেশন করা হলো তার প্রথম কাজ। এই সময় অফিসগামী স্বামীর পোশাক এগিয়ে দিতে হয়। প্রস্তুত রাখতে হয় ঘড়ি, ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও। এমনকি স্বামী যেন নির্বিঘ্নে অফিসের কাজ করতে পারেন সেজন্য তার দুপুরের খাবারটিও গুছিয়ে সঙ্গে দিয়েন সানজিদা। নাস্তা শেষ করে রান্নাঘর পরিষ্কার করেন, শ্বাশুড়িকে ঘরের কাজে সাহায্য করেন এবং দুপুরের মধ্যেই কাপড়…
ঢাকার মোহাম্মদপুরের সুনিবিড় হাউজিং। সেখানে বেশ অনেকটা পথ যাওয়ার পর দেখা মেলে অতি সাধারণ চেহারার এক বাড়ির। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই, সাধারণ এই বাড়ির ভেতরেই চলে অসাধারণ এক কর্মযজ্ঞ। যে বাসাটি দিনভর মেতে থাকে শিশুদের হাসি-কান্না-আনন্দ-কলরবে। বাসায় ঢুকতেই দেখা মিলল শিশুদের কেউ বই হাতে ছুটছে, কেউ তাদের ‘আম্মার’ আঁচল টেনে ধরছে, কেউ আবার হয়ত স্কুল থেকে ফিরেই ‘আম্মার’ খোঁজ করছে। আর এই কলরবের ভেতর মধ্যমনি হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন নারী, যার নাম হাজেরা বেগম। যিনি এই সব শিশুর ‘আম্মা’, অথচ এরা কেউই তার গর্ভ থেকে জন্ম নেয়নি। ১৯৭১ সালে জন্ম নেওয়া হাজেরা বেগম ছোটবেলা থেকেই নানা ধরনের বঞ্চনার শিকার…

