নানা আয়োজনে স্মরণ করা হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখকে।
শুক্রবার তার ৫৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের এই দিনে যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রামে শহীদ হন তিনি। সেদিন পাকিস্তানি হানাদারবাহিনীকে প্রতিরোধ এবং দলের সদস্যদের জীবন ও অস্ত্র রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ হন তিনি। পরে যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুরে তাকে সমাহিত করা হয়।
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সকাল ৮টায় পবিত্র কোরআন শরীফ পাঠের আয়োজন ছিল। এছাড়া নূর মোহাম্মদ নগরে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, গার্ড অব অনার, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণের আয়োজনও রয়েছে।
১৯৫৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর) যোগ দেন নূর মোহাম্মদ। বর্তমানে এই বাহিনীটির নাম ‘বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ’ (বিজিবি)। এই বাহিনীতে দীর্ঘদিন দিনাজপুর সীমান্তে চাকরি করার পরে ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই যশোর সেক্টরে বদলি হন তিনি। পরবর্তীতে ল্যান্স নায়েকে পদোন্নতি পান।
১৯৭১ সালে যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী এবং সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেজর এস এ মঞ্জুর। নূর মোহাম্মদ যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নের্তৃত্বে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশ শত্রুমুক্ত করেন।
নূর মোহাম্মদ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মোহাম্মদ আমানত শেখ ও মা জেন্নাতুন্নেছা। ছোটবেলাতেই বাবা-মাকে হারান তিনি। সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন।
২০০৮ সালের ১৮ মার্চ মহিষখোলার নাম পরিবর্তন করে তার নামে ‘নূর মোহাম্মদ নগর’ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধকালীন ৮ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আবু ওসমান চৌধুরী নূর মোহাম্মদ নগরের উদ্বোধন করেন। এরপর উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে যায় নূর মোহাম্মদ নগর। তার স্মৃতিরক্ষার্থে নূর মোহাম্মদ নগরে নির্মাণ করা হয়েছে ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর’, ‘স্মৃতিস্তম্ভ’ এবং ‘স্কুল’ ও ‘কলেজ’।


