হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু

হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু
ছবি: জান্নাতুল ফেরদাউস/ টাইমস
Advertisement
Advertisement

দেশে হাম পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও চারজন প্রাণ হারিয়েছে।

শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একজন ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগী ছিলেন এবং তিনজন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ ২০২৬ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে এবং উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১৭ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৬ জন এবং হামের উপসর্গ বা সন্দেহজনক অবস্থায় মারা গেছেন ১৮১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১,১৯৭ জন ব্যক্তি হামে আক্রান্ত হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৬০৬ জনে। বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৬৩ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন

ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে একই সময়ে দেশে নতুন করে আরও ১৬৫ জনের দেহে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে, যার মধ্যে ১৪৮ জনই ঢাকা বিভাগের। এর ফলে দেশে মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৪৩ জনে।

বর্তমানে আক্রান্তদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ; গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৮৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং এ পর্যন্ত মোট ১২ হাজার ৩৯৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার দেশের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ ও ১২ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ৩০টি উপজেলা, ১৩টি পৌরসভা এবং ৪টি সিটি করপোরেশনে টিকাদান লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় সাফল্য এসেছে।

নির্ধারিত এলাকাগুলোতে মোট ২১ লাখ ৮০ হাজার ১০৫ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার বিপরীতে শনিবার পর্যন্ত ১৪ লাখ ৮৭ হাজার ১৯২ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে রাজশাহী বিভাগে সর্বোচ্চ কাভারেজ অর্জিত হয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনা এবং ময়মনসিংহ বিভাগে টিকাদানের হার ১০০ শতাংশ বা তার বেশি থাকলেও ঢাকা বিভাগে এই হার বর্তমানে ৯৩ শতাংশে রয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad