সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে এক সভা করেছেন। মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই।
ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে সংসদ সদস্যদের নানা বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন সংসদ নেতা। বিভিন্ন আইন ও বিল নিয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জনমনে যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, তা যথাযথভাবে মোকাবিলা করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
চলতি অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সময়ে জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশ, আইন-প্রণয়ন কার্যাবলি, ৭১ বিধি ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনায় কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কটাক্ষ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেছেন, সংসদ সদস্যরা যতটুকু সময় বক্তব্য দেবেন বা পয়েন্ট উত্থাপন করবেন, তা যেন গোছানো ও সুন্দর হয়। কোনো অবস্থাতেই অতিরিক্ত কথা বা অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য করা যাবে না।
সংসদে কোনো প্রকার অসত্য তথ্য দেওয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, ভুল বা অসত্য তথ্য উত্থাপন করলে প্রতিপক্ষের জন্য তর্কের সুযোগ তৈরি হয়। তাই সর্বদা তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল বক্তব্য রাখতে হবে।
সংসদ সদস্যদের সঠিক সময়ে অধিবেশনে উপস্থিত থাকার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধসহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো নিয়ে বক্তব্য বা বিবৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সভায় উত্থাপিত অধ্যাদেশগুলো বর্তমানে পাস না হলেও পরবর্তীতে সংশোধন, পরিমার্জন বা বিয়োজন করে বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হতে পারে। সংসদ সদস্যদের এসব বিষয়ে গভীর পড়াশোনা করে সংসদে কথা বলতে বলা হয়েছে।
সভার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের সভাটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। বিল পাসের ক্ষেত্রে সবার ইতিবাচক ভূমিকা এবং সময়মতো অধিবেশনে উপস্থিত থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সরকারি দলের একাধিক সংসদ সদস্য জানান, প্রধানমন্ত্রী নির্দিষ্ট করে কাউকে দোষারোপ না করে সামগ্রিকভাবে গঠনমূলক ও তথ্যবহুল আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। যার যে বিষয়ে দক্ষতা ও দায়িত্ব রয়েছে, তাকে সেই বিষয়েই কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন সংসদ নেতা।


