বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের দিকে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘নিকট ভবিষ্যতে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের লড়াই চলমান থাকায় এখন মূল অগ্রাধিকার হচ্ছে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা।’
রোববার জাতীয় বহুপক্ষীয় পরামর্শ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে জাতিসংঘের একটি ইন্ডিপেন্ডেন্ট গ্র্যাজুয়েশন রেডিনেস অ্যাসেসমেন্টের ফলাফল উপস্থাপন উপলক্ষে শেরে বাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রী বলেন, ‘এখন ইকোনমিকে সেলভেজ করার চেষ্টা করছে, গ্র্যাজুয়েশনের প্রশ্ন তো আসছে না। আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছি, ইকোনমির সব মানদণ্ড নিম্নগামী। সুতরাং সেখানে তো গ্র্যাজুয়েশনের প্রশ্ন আসছে না।’
‘এখন মধ্যপ্রাচ্যে একটা যুদ্ধ চলছে, এটার ইম্প্যাক্ট অনেক বড় এবং এটার জন্য বাংলাদেশের সরকারি তহবিল রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এগুলো আমরা ফায়ার ফাইটিং করছি প্রত্যেকদিন। তারপরে বাংলাদেশের যে দায়-দেনা হয়েছে, এটা ম্যানেজমেন্ট একটা বড় ধরনের সমস্যা’, যোগ করেন আমির খসরু।
তিনি বলেন, ‘আমরা আগামী দিনে যে ফাইন্যান্সিংগুলো করব, এখানে কস্ট অব ফাইন্যান্সিং চিন্তা করতে হবে এবং সবকিছু মিলিয়ে আমাদেরকে যে ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে যেখানে আমরা যেতে পারি, সেটা বিএনপির ম্যানিফেস্টোতে সব বলা আছে। বিএনপির ম্যানিফেস্টো আমরা সময়মতো ইমপ্লিমেন্টেশন করছি, এগুলো সম্পাদন করলে যে ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের কথাটা আছে, সেটা হয়ে যাবে।’
‘তখনই আমরা রেডি হব, তখনই গ্র্যাজুয়েশনের দিকে যাব। এই মুহূর্তে গ্র্যাজুয়েশনের দিকে যাওয়ার কোনো সুযোগ নাই’, জোর দেন মন্ত্রী।
সরকার চাইলেই এই গ্র্যাজুয়েশন পেছাবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটা নিয়ে কাজ চলছে। বাংলাদেশের কেস তো খুবই স্ট্রং। এই পরিপ্রেক্ষিতে গ্র্যাজুয়েশনের কোনো সুযোগ নেই।’
‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুধু জ্বালানি সংকট না, সব পণ্যের উপরে পড়বে। সব সাপ্লাই চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং আগামী দিনে দ্রব্যমূল্য বাড়বে এই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই। কারণ সাপ্লাই চেইন যখন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এটা কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় না। এটা বৈশ্বিক বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রে এরইমধ্যে তেলের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। শ্রীলঙ্কাতে ২৫ শতাংশ বাড়ছে। আমরা কিন্তু এখন বাড়াইনি।’
‘দাম না বাড়িয়ে কতক্ষণ আপনি থাকতে পারবেন’ প্রশ্ন রেখে মন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু আমরা নির্বাচিত সরকার, আমরা চেষ্টা করছি আমাদের উপর চাপ সৃষ্টি না করতে। একটা সময় এই চাপ তো নিতে পারবে না সরকার এবং চাপ নিতে না পারলে যদি সরকারি তহবিল এভাবে রক্তক্ষরণ হতে থাকে এটা তো আল্টিমেটলি জনগণেরই ক্ষতি হবে।’


