জুলাই সনদ ও গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়নের প্রস্তাব উত্থাপনে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দিয়েছে বিরোধী দল। পরে স্পিকার আগামী মঙ্গলবার দিনের কর্মদিবসের শেষ দিকে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য দুই ঘণ্টা বরাদ্দ দেন।
একই সঙ্গে এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য সময়ও চান বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। বিষয়টি ঘিরে সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বিষয়টি উত্থাপন করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
অধিবেশন চলাকালে স্পিকার জানান, কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলামও স্পিকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ৭১ বিধি সব সদস্যের অধিকার। এটি শেষ হলে বিরোধীদলীয় নেতার চিঠির বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।
পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমি সবাইকে সম্মান জানাতে চাই। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান আলোচনার জন্য একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। বিগত দিনে স্পিকার তাকে বিধি মোতাবেক নোটিশ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন এবং সে অনুযায়ী আলোচনার সময় দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন।’
সরকারি দলের চিফ হুইপের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং ৭১ বিধির পরেই এ ধরনের প্রস্তাব বা নোটিশ উত্থাপিত হয়। এখানে আমার মনে হয় না কারও অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে।’
এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা স্পষ্ট—জুলাই সনদের সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হবে এবং গণভোটের ফলাফল কার্যকর করতে হবে। এটি বিলম্বিত করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু সংসদে সরকারি দলের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, যেন দেশে কোনো গণভোটই হয়নি।’
এরপর বিরোধীদলীয় নেতা আবারও কথা বলেন। তিনি জানান, তিনি জেনেশুনেই এই সময়ে আলোচনার প্রস্তাব করেছেন, যা ৬৪ বিধিতে উল্লেখ রয়েছে।
এক পর্যায়ে তর্ক-বিতর্ক তীব্র হলে পরিস্থিতি বিবেচনায় ডেপুটি স্পিকার বলেন, পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য পরে নেওয়া যাবে। এরপর তিনি ৭১ বিধিতে জন-গুরুত্বসম্পন্ন নোটিশগুলোর ওপর আলোচনা শুরু করেন।


