ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম আক্রান্ত হয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম আক্রান্ত হয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের অতিরিক্ত চাপ | ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত ১২ দিনে হাম আক্রান্ত হয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হলো।

রোববার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে ৬২৬ শিশু ভর্তি রয়েছে। এদের মধ্যে গত ১২ দিনে ১০৬ জন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

সবশেষ শনিবার রাতে মারা যাওয়া দুই শিশু হলো ময়মনসিংহ সদরের চরগুবদিয়া এলাকার আব্দুর রহিমের সাত মাসের ছেলে লিয়ন এবং কলমাকান্দা উপজেলার সারারকোণা গ্রামের আয়নাল হোসেনের ছয় মাসের ছেলে নুর নবী।

এর আগে, ১৮ মার্চ গৌরীপুরের কলতাপাড়া এলাকার চার মাস বয়সী ওয়াজকুরুনি, ২৬ মার্চ নগরের নওমহলের তিন বছর বয়সী তনুসা এবং একই দিন পুলিশ লাইনস এলাকা থেকে ভর্তি হওয়া দুই বছর বয়সী সামিয়ার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে গুরুতর ৮৫ শিশুকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪৭ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক গোলাম মওলার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে শিশু বিভাগের ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে শয্যাসংকট চরমে পৌঁছেছে। অনেক ক্ষেত্রে এক বিছানায় দুই শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এমনকি হাম আক্রান্ত শিশুদের সাধারণ রোগীদের সঙ্গেও রাখা হচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন

গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের কলাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা শাহানাজ বেগম বলেন, ‘শিশুর জন্মের পর সব টিকা দেওয়া হয়েছে। তারপরও আমার ছেলে হামে আক্রান্ত হয়েছে।’

চিকিৎসকরা জানান, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। হাঁচি-কাশি, কথা বলা কিংবা সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখ ও মস্তিষ্কে প্রদাহসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিচ্ছে, যা মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

শিশু বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মাজহারুল আমিন জানান, টিকা নেওয়া ও না নেওয়া; উভয় ধরনের রোগীই পাওয়া যাচ্ছে। আলাদা কর্নার করা হলেও স্থান সংকুলান না হওয়ায় শতভাগ আইসোলেশন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

একই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আক্তারুজ্জামান বলেন, টিকাদানে ঘাটতি এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ। আক্রান্তদের আলাদা রাখার চেষ্টা চলছে।

দেশজুড়ে হামের প্রকোপ বেড়েছে উল্লেখ করে প্রয়োজন অনুযায়ী আইসোলেশন সুবিধা বাড়ানো হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান। তিনি জানান, ৮ নম্বর ওয়ার্ডকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রূপান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে ময়মনসিংহের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফয়সল আহমেদ জানিয়েছেন, জেলার ১৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আলাদা বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি বহির্বিভাগে শিশুদের জন্য ‘ডেডিকেটেড ফিভার ক্লিনিক’ চালু করা হয়েছে। অভিভাবকদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা এবং আক্রান্তদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান তিনি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad