ইরান যুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি সালেহ উদ্দিন ওরফে আহমেদ আলীর মরদেহ সিলেটে পৌঁছেছে।
সোমবার দুপুরে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার মরদেহ পৌছায়। সেখানে মরদেহ গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণ, বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
এর আগে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে আহমদ আলীর মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব উপস্থিত থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন।
নিহত আহমদ আলী মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার বাসিন্দা। মরদেহ নেওয়ার সময় নিহতের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। পরে মরদেহ নিয়ে সিলেটের উদ্দেশে রওনা করা হয়।
ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানান, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত চারজন বাংলাদেশি নিহত গেছেন। তাদের মধ্যে একজন বাহরাইনে, একজন দুবাইয়ে এবং দুজন সৌদি আরবে নিহত হয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে সংঘটিত এই সংকটের শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে প্রবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিয়েছেন।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সৌদি আরবে টাঙ্গাইলের নিহত বাচ্চু মিয়ার পরিবারের সঙ্গে এবং কিশোরগঞ্জের নিহতের পরিবারের সঙ্গেও কথা হয়েছে। এ ছাড়া, আহত প্রবাসীদের যত্নে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসগুলো পূর্ণাঙ্গ সেবা দিচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী প্রবাসীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সংঘাতপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলুন, স্থানীয় সতর্কতার নির্দেশনা মেনে চলুন এবং দেশীয় আইনবিরোধী কোনো বিষয় সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশ করবেন না।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা সরকারের জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিহত আহমদ আলীর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দাফন সম্পন্ন করতে সাহায্য করছি। আশা করি, এ সংকট দ্রুত সমাধান হবে।’
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহমেদ আলীর বাড়ি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা গ্রামে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে ইরানের ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন। সেখানে তিনি পানিবাহী একটি গাড়ির চালক হিসেবে কাজ করতেন।
নিহতের ছোট দুই ভাই জাকির হোসেন ও বোরহান আহমদও একই শহরে থাকেন। তারাই পরিবারের সদস্যদের কাছে তার মৃত্যুর খবর জানান। মরদেহটি সিলেট থেকে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা গ্রামে তার বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হবে।


