সোহরাওয়ার্দীতে পুলিশের অভিযান, সাংবাদিকদের মারধরের অভিযোগ

সোহরাওয়ার্দীতে পুলিশের অভিযান, সাংবাদিকদের মারধরের অভিযোগ
Advertisement
Advertisement

ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে দুই সাংবাদিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রমনা জোন এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মোট ৬০-৭০ জন পুলিশ সদস্য ছিল বলে জানান ডিএমপি রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ।

অভিযান থেকে মোট ৭-৮ জনকে আটক করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘৭-৮ জনই ছিল, আজকে বেশি ধরিনি, উদ্দেশ্য ছিল দাবড়ানো আরকি।’

অভিযানে আহতদের মধ্যে রয়েছেন আজকের পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার কাওসার আহমেদ রিপন, বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার তোফায়েল আহমেদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দিন।

আজকের পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার কাউসার আহমেদ রিপন বলেন, ‘বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোরের সাংবাদিক তোফায়েলরে আগে মারছে। পরে আমি আটকাতে যাইয়া আমারে মারছে।’ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পুলিশের সঙ্গে অভিযান কভার করতে গিয়ে এ ঘটনার শিকার হন বলে জানান তিনি।

রিপন বলেন, ‘আমি দৌড়ে গেছি যে, আপনারা ওরে (তোফায়েল) মারতেছেন কেন, আমি কথা বলার কারণে আমারও ফোন-টোন সরায়ে আমারেও মারা শুরু করছে।’

ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দিন পুলিশের সঙ্গে তর্ক করার এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা নাঈমকে এলোপাথাড়ি মারা শুরু করে। ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

আরও পড়ুন

নাঈম উদ্দিন জানান, তারা ‘বহু-ভাষার সন্ধ্যা’ নামে একটি অনুষ্ঠান নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আলোচনা করছিলেন এবং বের হয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের মুখোমুখি হন।

অভিযান কি নিয়ে ছিল প্রশ্ন করলে ডিসি মাসুদ বলেন, ‘এটা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান। রাত ৮টা-৯ টার দিকে তো অন্য কেউ থাকে না, একেবারে অন্ধকার জঙ্গলের মধ্যে এরা বসে আছে। এটা তো রেগুলারই চলে, আজকে একটু বড় আকারে করা হয়েছে।’

ডিসি মাসুদের ভাষ্যমতে, ‘অভিযান চলাকালে ৮-১০ জনের একটি দল অন্যদের অজান্তে পাশে সরে যায়, বাকিরা বাম দিকে চলে যান। ওই দলটি কিছু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মুখোমুখি হয়, যারা গাঁজা সেবন করছিল, তাদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে ধস্তাধস্তি শুরু করে।’

ডিসি মাসুদ বলেন, ‘যারা গাঁজা খায় ওদের কাছে ছোট চাকু বা কাঁচি টাইপের থাকে যেটা দিয়ে গাঁজা তৈরি বা প্রসেস করে। সেরকম কিছু দিয়েই একজন কনস্টেবলের চোখের ওপরে আঘাত করেছে। সেখানে গভীর ক্ষত তৈরি হয়।’

সাংবাদিকের ওপর হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অধস্তনরা দাবি করে, তারা ‍বুঝতে পারেনি যে তিনি সাংবাদিক। কারণ গলায় কোনো প্রেস পরিচয়পত্র ছিল না।’ যদিও সাংবাদিকের অভিযোগ হামলাটি ইচ্ছাকৃত ছিল।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কথা বলে সমাধানও হয়েছে। ওদেরকে বলেছি আমরা থাকলে তো কোনোভাবেই এমন হতো না।’

পরে প্রক্টর লোক পাঠানোয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাকিদের মঙ্গলবার মোবাইল কোর্টে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পুলিশ আমাদেরকে জানিয়েছিল তাদের অভিযানে আমাদের কয়েকজন শিক্ষার্থীদের আটক করা হয়েছে। তখন আমি তাদের বলেছি আমাদের শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দিতে হবে।’

শিক্ষার্থীর ওপর হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ আমি দেখেছি। এ বিষয়ে ডিসি মাসুদের সঙ্গে কথা বলব, সেখানে কি হয়েছিল।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর