নানা অনিশ্চয়তা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সদস্যরা। এসময় কয়েকজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যও শপথ নেন, যার মধ্যে ছিলেন রুমিন ফারহানা।
মঙ্গলবার বেলা ১২টা ২০ মিনিটে তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। এর আগে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির সংসদ সদস্যদেরও শপথ পাঠ করান।
এই শপথ অনুষ্ঠানটিও পরিচালনা করেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা। তিনি জানান, জামায়াত নেতারা সংসদ সদস্য হিসেবে এবং সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবেও শপথ নেবেন।
সে অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেন জামায়াত জোটের নেতারা। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই এই শপথ অনুষ্ঠান হয়। তবে সেখানে আর স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য বিশেষ করে রুমিন ফারহানাকে দেখা যায়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৭৭টি আসনে জয় পেয়েছেন এই জোটের প্রার্থীরা। সে হিসেবে ইতিহাসে প্রথম বারের মতো প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী।
সকালে বিএনপির সংসদ সদস্যরা এমপি হিসেবে শপথ নিলেও তারা সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। বিষয়টি সংবিধানে না থাকায় দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা এই শপথ নেবেন না বলে শপথ অনুষ্ঠানের আগেই জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
এ খবর প্রকাশের পর জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিএনপি যদি সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে শপথ না নেয় তাহলে কোনো শপথই নেবে না জামায়াত জোট। পরে সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে জরুরি বৈঠকে বসেন জোটের নেতারা।
ফলে জামায়াতের শপথ গ্রহণ নিয়ে এক ধরনের সংকট তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে গণমাধ্যম; সবখানেই শুরু হয় আলোচনা।
বৈঠকের পর জানা গেল শপথ নেবেন জামায়াত জোটের নেতারা। একই সঙ্গে তারা সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবেও শপথ নেবেন।


