ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছে বিএনপি। দুই-এক দিনের মধ্যেই নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের পরপরই প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
নতুন সরকারে কারা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হচ্ছেন তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।। সব দিক বিবেচনায় নবীন ও প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা, নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সংসদ সদস্য নয় (টেকনোক্র্যাট কোটায়) এমন নেতাদের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা গঠনে গুরুত্ব দিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এমনটাই জানিয়েছে দলীয় সূত্র।
আগামী মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্যদের এবং বিকালে মন্ত্রিসভার শপথ হতে পারে। এ নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয় প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি, তবে সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বিএনপির সুত্রগুলো জানিয়েছে, শুরুতে মন্ত্রিসভা আকার খুব একটা বড় করা হচ্ছে না। প্রয়োজনে পরে সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে। সংসদ সদস্য নন—এমন কয়েকজন মেধাবী ও দলের জন্য নিবেদিত নেতাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় অন্তর্ভুক্ত করার কথাও ভাবা হচ্ছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতা। প্রাথমিকভাবে মন্ত্রিসভার আকার ৪০-এর ঘরে রাখা নিয়ে আলোচনা চলছে। সংসদ সদস্যদের শপথের পরই দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আরো আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান- এমন ইঙ্গিত দিচ্ছেন সিনিয়র নেতারা।
জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’কে বলেন, খুবই তাড়াতাড়ি নতুন সরকার গঠন হবে। তবে এখনো বলা যাচ্ছে না কারা মন্ত্রিসভায় থাকবেন। নিজে কি দায়িত্ব পাচ্ছেন এমন প্রশ্নে তিনি কিছু জানেন না জানিয়ে বলেন, আগে সংসদ সদস্যদের শপথ হোক, অল্প সময়ের মধ্যেই মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে।
দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, শুরুতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পরবর্তী সময়ে তাকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে—এমন আলোচনা আছে।
স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্যদের মধ্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ ও অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
টেকনোক্র্যাট কোটায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মো. এনামুল হক, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবীর ও হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকের নাম শোনা যাচ্ছে। টেকনোক্র্যাট কোটায় স্থান না পেলে অনেককে মন্ত্রীর মর্যাদায় উপদেষ্টা করা হতে পারে। কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদেও নিয়োগ পেতে পারেন।
নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমির, আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রশীদ, শেখ রবিউল আলম, আসাদুল হাবিব দুলু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রকিবুল ইসলাম বকুল, মোহাম্মদ আলী আসগর লবি, আব্দুল ওয়াদুদ ভুইয়া ও সাচিং প্রু জেরীর নাম আলোচনায় রয়েছে।


