সহকারী পরিচালকের দাপটে পাবনার বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ অচল!

সহকারী পরিচালকের দাপটে পাবনার বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ অচল!
Advertisement
Advertisement

পাবনার টেবুনিয়ায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, হেনস্তা এবং এককভাবে কেন্দ্র পরিচালনার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বগুড়ায় বাড়ি হওয়ার সুবাদে প্রভাব খাটিয়ে মাহমুদুল হাসান নিজেকে কেন্দ্রের একমাত্র নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। তার নির্দেশ অমান্য করলে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি এক অবসরপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডার জেরে শ্রমিকদের ব্যবহার করে কাজ বন্ধ রেখে ওই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এতে কেন্দ্রের শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

অভিযোগে বলা হয়, কেন্দ্রটিতে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র জনবল সংকট চলছে। ২৬টি পদের বিপরীতে মাত্র তিনজন কর্মকর্তা দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অফিসের প্রয়োজনে অবসরপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমকে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করানো হচ্ছিল।

গত ৫ জানুয়ারি শ্রমিকদের এক দাবিকে কেন্দ্র করে ধর্মঘটের সময় জাহাঙ্গীর আলম অফিসে গেলে শ্রমিকরা তাকে বাধা দেন এবং তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এরপর ১১ জানুয়ারি তিনি অফিসে গিয়ে দেখেন তার বসার কক্ষের চেয়ার-টেবিল সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পিয়নের কাছ থেকে জানতে পারেন, সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসানের নির্দেশে শ্রমিকরা তা সরিয়েছে।

পরে মাহমুদুল হাসান অফিসে এলে জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি জানতে চাইলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও গালিগালাজ হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শ্রমিকরা দু’জনকে নিবৃত করেন।

এর পরদিন ১২ জানুয়ারি অফিস গেটে জাহাঙ্গীর আলমের শাস্তির দাবিতে শ্রমিকরা মানববন্ধন করেন। সেখানে তাকে আওয়ামী লীগের দোসর উল্লেখ করে সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসানের ওপর হামলার বিচার দাবি করা হয়।

আরও পড়ুন

এ ঘটনায় ১২ জানুয়ারি মাহমুদুল হাসান ও জাহাঙ্গীর আলম উভয়েই বিএডিসি টেবুনিয়া কেন্দ্রের যুগ্ম পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। একই সঙ্গে সহকারী পরিচালক সদর থানায় একটি জিডি করেন।

অবসরপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিনি কেবল তার চেয়ার-টেবিলের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। এ সময় সহকারী পরিচালক তাকে চাকরি নেই বলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, যা মানহানিকর। তার দাবি, শ্রমিকদের সঙ্গে তার কোনো বিরোধ নেই, কিন্তু তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মানববন্ধন করানো হয়েছে।

এ বিষয়ে টেবুনিয়া বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের যুগ্ম পরিচালক কৃষিবিদ মো. কাজেম আলী বলেন, একজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে অপদস্ত করা ঠিক নয়। অফিসের প্রয়োজনে জাহাঙ্গীর আলমকে কাজ করানো হচ্ছিল। উভয় পক্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান ৫ আগস্টের পর টানা আট মাস অফিস করেননি এবং এখনও অনিয়মিতভাবে অফিস করছেন। তিনি খামারের কাজে বাধা সৃষ্টি করছেন এবং সিনিয়র কর্মকর্তাদের নির্দেশ মানছেন না। বীজের মান নিয়ে নির্দেশনা দিলেও তা উপেক্ষা করা হচ্ছে, যার ফলে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

যুগ্ম পরিচালক জানান, ২২ জানুয়ারির মধ্যে আমন বীজ সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের কাজ শেষ করার সময়সীমা রয়েছে। কিন্তু সহকারী পরিচালক ও শ্রমিকদের যোগসাজশে কাজ বন্ধ থাকায় মানসম্মত বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিএডিসি পাবনা বিপণন বিভাগের উপপরিচালক মো. ছাদেক হোসেন বলেন, মাহমুদুল হাসান চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং কোনো সিনিয়র কর্মকর্তাকে মানেন না। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে একাধিক অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে এবং একটি বিভাগীয় মামলাও হয়েছে।

টেবুনিয়া বিএডিসি খামারের উপপরিচালক এস এম মাহবুব অর রশিদ বলেন, সহকারী পরিচালকের কথা মতো কাজ না করায় তাকেও বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে পোস্ট দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। তার দাবি, অবসরপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম তার ওপর হামলার চেষ্টা করেছিলেন এবং শ্রমিকরা না থাকলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। তিনি বলেন, শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানববন্ধন করেছে, তিনি কাউকে দিয়ে তা করাননি।

তিনি আরও বলেন, আট মাস অফিসে না থাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো ছিল এবং পরিস্থিতির কারণেই তিনি সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার ভাষ্য, তিনি কারও সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেননি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
টাইমস রিপোর্ট
টাইমস রিপোর্ট

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর