জাতীয় দলের হয়ে খেলাই সবচেয়ে বড় স্বপ্ন

জাতীয় দলের হয়ে খেলাই সবচেয়ে বড় স্বপ্ন
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

বাংলাদেশ ক্রিকেটে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন মোহাম্মদ রুবেল। প্রথম বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরেছেন এই মিস্ট্রি স্পিনার। অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত টপ অ্যান্ড টি-টোয়েন্টি ২০২৬-এ সাত ম্যাচে ২৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তার বোলিং গড় ৭ দশমিক ০৮, ইকোনমি রেট ৫ দশমিক ৮১।

ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে আসতে রুবেলকে ভিন্ন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের সদস্য। অস্ট্রেলিয়ায় পারফরম্যান্স, বোলিং, ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে টাইমস অব বাংলাদেশের শাজেদুল হাসান রাহিনের সঙ্গে কথা বলেছেন ৩০ বছর বয়সী রুবেল।

টপ অ্যান্ড টি-টোয়েন্টি ২০২৬-এ সাত ম্যাচে ২৩ উইকেট নিয়েছেন। নিজের পারফরম্যান্স কীভাবে দেখছেন?

ভালো লাগছে। খুব বেশি অনুভূতি হচ্ছে না। তবে পারফরম্যান্স করতে পেরে আনন্দিত।

এটি ছিল ক্রিকেটার হিসেবে আপনার প্রথম বিদেশ সফর। অস্ট্রেলিয়ায় কারও কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছেন?

প্রতিটি দলের খেলোয়াড় আমার বোলিংয়ের প্রশংসা করেছেন। বলেছেন, আমি ভালো বোলিং করি। ধারাভাষ্যকাররাও এসে প্রশংসা করেছেন।

জোহান বোথা ছিলেন প্রতিপক্ষ দলের কোচ। তিনিও আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তুমি ভালো বোলিং করো। তোমার অনেক বৈচিত্র্য আছে। এটা ধরে রাখো।’

তিনি আমাকে বিগ ব্যাশে দেখতে চান বলেও জানিয়েছেন।

আপনার বোলিংয়ে কত ধরনের বৈচিত্র্য আছে?

আমি এভাবে গুনে দেখি না। সঠিক জায়গায় বল করার চেষ্টা করি। ব্যাটারকে বিভ্রান্ত করতে বলের ধরনে সূক্ষ্ম পরিবর্তন আনি।

আরও পড়ুন

বৈচিত্র্য আনতে গিয়ে অনেক বোলারের বোলিং অ্যাকশন অবৈধ হয়ে যায়। আপনি কীভাবে এটি এড়ান?

আমি স্বাভাবিকভাবেই বোলিং করি। জানি, আমার অ্যাকশনে কোনো সমস্যা নেই। অনুশীলনের সময় নিজের বোলিংয়ের ভিডিও করি। পরে দেখি হাত সোজা আছে কি না, অ্যাকশন ঠিক আছে কি না।

বাংলাদেশের স্পিনাররা সাধারণত ফিঙ্গার স্পিন দিয়ে শুরু করেন। আর্ম বল থাকে প্রধান বৈচিত্র্য। আপনি ক্যারম বল বা দুসরা কবে থেকে শুরু করেন?

২০২৩-২৪ মৌসুমে এসব বৈচিত্র্য নিয়ে বোলিং শুরু করি। এর আগে আমিও নিয়মিত অফ স্পিন করতাম।

সাত বছর দ্বিতীয় বিভাগে খেলেছি। সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ উইকেট পেতাম। এর বেশি নয়। ভালো বোলিং করতাম, কিন্তু মনে হতো যথেষ্ট হচ্ছে না।

একসময় মনে হলো, এভাবে চললে ক্যারিয়ার দ্বিতীয় বা প্রথম বিভাগেই আটকে থাকবে। তাই ২০২৩-২৪ দ্বিতীয় বিভাগ মৌসুম শুরুর তিন মাস আগে ভিন্ন কিছু চেষ্টা করার সিদ্ধান্ত নিই।

লিগ শুরুর তিন মাস আগে নতুন বৈচিত্র্য নিয়ে অনুশীলন শুরু করি। দেখলাম, ভালো হচ্ছে। ঢাকার দ্বিতীয় বিভাগে সেগুলো প্রয়োগ করি। ওই মৌসুমে আলহামদুলিল্লাহ ৩৭ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হই।

পরের বছর প্রথম বিভাগে খেলি। সেখানেও ৪৩ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হই। এরপর জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল), বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) খেলার সুযোগ পাই। সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ২০ উইকেট নিয়েছি।

ক্রিকেট বা বোলিংয়ে কাউকে আদর্শ হিসেবে অনুসরণ করেছেন?

আসলে কাউকে অনুসরণ করিনি। তবে সাকিব আল হাসানকে খুব পছন্দ করি। সবারই প্রিয় খেলোয়াড় থাকে। আমার প্রিয় খেলোয়াড় সাকিব।

প্রিয় অফ স্পিনার বেছে নিতে বললে কাকে বেছে নেবেন?

নিজেকেই বেছে নেব (হাসি)। সত্যি বলতে, আমি কাউকে অনুসরণ করি না।

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের অনেক অপ্রচলিত বোলার বিশ্বের বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগে সুযোগ পান। আপনারও কি এসব লিগে খেলার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে?

আমি এসব নিয়ে বেশি ভাবি না। শুধু জানি, যখন যেখানে খেলার সুযোগ পাব, সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।
জাতীয় দলের হয়ে খেলা সবার স্বপ্ন। আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলা।
এনসিএল, বিপিএল বা যেখানেই খেলার সুযোগ পাই, ভালো বোলিং করতে হবে। ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি বেশি ভাবি না।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর