পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারামুক্তির দাবিতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে কমনওয়েলথ। সদস্য দেশগুলোতে গণতান্ত্রিক চর্চা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে পাকিস্তানের গণতন্ত্র রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে সমর্থন চেয়ে বিভিন্ন মহলের আহ্বানের পর এই অবস্থান জানাল কমনওয়েলথ।
গত বুধবার ব্রিটিশ এমপি জ্যাক গোল্ডস্মিথকে পাঠানো এক চিঠিতে কমনওয়েলথের মহাসচিব শার্লি বচওয়ে ইমরান খান ও কমনওয়েলথ সনদ বিষয়ে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।

কমনওয়েলথ সচিবালয় জানায়, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন নীতি ও মূল্যবোধ রক্ষায় তারা নিজেদের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। পাশাপাশি পাকিস্তানসহ সব কমনওয়েলথ সদস্য দেশের সঙ্গে গঠনমূলক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন পক্ষের আহ্বানের মধ্যেই কমনওয়েলথ সচিবালয়ের এই প্রতিক্রিয়া এলো। তাদেরই একজন জ্যাক গোল্ডস্মিথ। তিনি ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথের ভাই।
চিঠিতে গোল্ডস্মিথ পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে কথা বলে ইমরান খানের মুক্তির বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে কমনওয়েলথ মহাসচিবকে অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানের চিকিৎসার বিষয়ে যে নির্দেশ দিয়েছিল, তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হয়নি।
গোল্ডস্মিথ তার চিঠিতে কয়েকটি নিশ্চয়তা চেয়েছেন। এর মধ্যে ছিল—ইমরান খানের পছন্দের ও বিশ্বাসযোগ্য চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ, তার চিকিৎসা-সংক্রান্ত সম্পূর্ণ তথ্য (কোনো অংশ বাদ না দিয়ে), পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ এবং আইনজীবীদের সঙ্গে বাধাহীনভাবে যোগাযোগের অধিকার।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব নিশ্চয়তা দেওয়া না হলে কমনওয়েলথের নিয়ম ও ব্যবস্থা ব্যবহার করে সদস্য দেশগুলোর দায়িত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
ইমরান খানের বোন উজমা খান জানিয়েছেন, তাকে দীর্ঘ সময় একাকী রাখা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। জাতিসংঘের নির্যাতন বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডস এবং ইমরান খানের চিকিৎসক ফয়সাল সুলতানও এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
গোল্ডস্মিথের চিঠিতে দাবি করা হয়, ইমরান খানের আটক অবস্থার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব ফৌজদারি মামলাগুলোতে ন্যায়বিচার ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান ব্রিটিশ এমপি।

গত ২১ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে ইমরান খানকে ফের কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
পিটিআইয়ের এক মুখপাত্র জানান, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ইমরান খানকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েক ঘণ্টা রাখার পর তাকে আবার রাওয়ালপিন্ডি সেনানিবাসের আদালিয়া কারাগারে ফেরানো হয়।
ইমরান খানের আইনজীবীরা বলছেন, কারাগারে থাকার কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করে আসছেন। তবে পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


