নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনে বোয়িংকে ৩১ লাখ ডলার জরিমানা

নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনে বোয়িংকে ৩১ লাখ ডলার জরিমানা
প্রতীকী ছবি
Advertisement
Advertisement

বিমানের নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) আরোপিত ৩১ লাখ ডলার জরিমানা পরিশোধ করেছে উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং।

২০২৪ সালে মাঝ আকাশে আলাস্কা এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৯ উড়োজাহাজের দরজার অংশ খুলে যাওয়ার ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা লঙ্ঘনসহ একাধিক অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এ জরিমানা করা হয়।

সংস্থাটি বলেছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বোয়িংয়ের কাছ থেকে যে ৩১ লাখ ডলার জরিমানা চাওয়া হয়েছিল, তা চলতি বছরের জানুয়ারিতে পরিশোধ করা হয়। তবে বিষয়টি এর আগে প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। বোয়িং জরিমানা পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এফএএর তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ এবং অযোগ্য অবস্থায় থাকা দুটি উড়োজাহাজকে সংস্থাটির অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের অভিযোগেও গত বছর বোয়িংকে জরিমানা করা হয়েছিল।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়,  এর আগে ২০২৪ সালে বোয়িংয়ের উৎপাদন ব্যবস্থায় ব্যাপক অনিয়মের সন্ধান পায় এফএএ। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওয়াশিংটনের রেন্টনে বোয়িংয়ের ৭৩৭ কারখানা এবং ক্যানসাসের উইচিটায় তৎকালীন সহযোগী প্রতিষ্ঠান স্পিরিট অ্যারোসিস্টেমসের ৭৩৭ ফিউজলাজ কারখানায় শত শত মান নিয়ন্ত্রণ ত্রুটি শনাক্ত করে সংস্থাটি।

এফএএ আরও জানায়, বোয়িংয়ের এক কর্মী এফএএর হয়ে দায়িত্ব পালন করা এক সহকর্মীর ওপর চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। ওই কর্মী একটি ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ পরীক্ষা করে সেটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত মান পূরণ করছে না বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু বোয়িংয়ের নির্ধারিত সরবরাহ সময়সূচি বজায় রাখতে তাকে উড়োজাহাজটি অনুমোদনের জন্য সই করতে চাপ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

তবে বোয়িংয়ের বিরুদ্ধে আরোপিত এই জরিমানাকে যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল। এর আগে তিনি বলেছিলেন, বোয়িংয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য এ ধরনের জরিমানা ব্যবসার খরচ হিসেবে সহজেই বহন করা সম্ভব। ফলে এটি বিপজ্জনক আচরণ ঠেকাতে কার্যকর প্রতিরোধ তৈরি করে না।

বোয়িংয়ের নিরাপত্তা ও উৎপাদনসংক্রান্ত নানা অনিয়ম নিয়ে এর আগে তদন্ত করেছিলেন ব্লুমেনথাল। আলাস্কা এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজের মাঝ আকাশে কেবিনের একটি অংশ খুলে যাওয়ার ঘটনা তদন্ত করা কমিটিরও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। ওই কমিটির প্রতিবেদনে বোয়িংয়ের উৎপাদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরের হুইসেলব্লোয়ারদের গুরুতর উদ্বেগের কথা উঠে আসে।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আলাস্কা এয়ারলাইনসের একটি ৭৩৭ ম্যাক্স ৯ উড়োজাহাজ উড্ডয়নের পর কেবিনের একটি দরজার অংশ খুলে যায়। পরে উড়োজাহাজটিতে গুরুত্বপূর্ণ চারটি বোল্ট না থাকার তথ্য সামনে আসে। ঘটনাটি বোয়িংয়ের নিরাপত্তা ও উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৭৩৭ ম্যাক্স ৯-এর উড্ডয়ন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং এফএএ বোয়িংয়ের মাসিক উৎপাদন সর্বোচ্চ ৩৮টি উড়োজাহাজে সীমিত করে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে সেই সীমা তুলে নেওয়া হয়।

এদিকে গত জুলাইয়ে এফএএ জানিয়েছে, কয়েক মাসের তথ্য ও নিরাপত্তা পর্যালোচনায় বোয়িংয়ের উৎপাদন মানে ধারাবাহিক উন্নতি পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটিকে ৭৩৭ ম্যাক্স ও ৭৮৭ উড়োজাহাজের এয়ারওয়ার্থিনেস সার্টিফিকেট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার প্ৰতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই অনুযায়ী গত ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি সই করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এসব উড়োজাহাজ কিনতে খরচ পড়বে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা  ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা । এরপর আরও ১১টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমান কেনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে  ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
টাইমস রিপোর্ট
টাইমস রিপোর্ট

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর